ভারতের বহুল আলোচিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষাকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেশের ১৮টি স্থানে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হবে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিমান। পাশাপাশি প্রায় পাঁচ লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর নজরদারি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো বিমানবাহিনীকে এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবহনকালীন কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ, কারচুপি বা প্রশ্নফাঁসের ঝুঁকি কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছিলেন, পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নিরাপত্তা জোরদার করতেই প্রশ্নপত্র পরিবহনে বিমানবাহিনীর সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে পরীক্ষাটি পুনরায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার পরীক্ষা পরিচালনার প্রতিটি ধাপে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সারা দেশে প্রায় পাঁচ লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্র, প্রশ্নপত্র পরিবহন এবং পুরো পরীক্ষাপ্রক্রিয়া কঠোর নজরদারির আওতায় থাকবে। একই সঙ্গে এআই-সক্ষম ক্যামেরার মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্তের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রশ্নফাঁস রোধে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন প্রক্রিয়াতেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে গঠিত শিক্ষক ও বিষয়বিশেষজ্ঞদের একটি দল প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ করছে। তাদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন পরিবেশে রাখা হয়েছে এবং মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট কিংবা বাইরের যোগাযোগের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২১ জুন পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী দলের ওপর এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। এর লক্ষ্য হলো প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের ফাঁসের সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা।
ভারতের অন্যতম বৃহৎ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজিতে প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সাম্প্রতিক প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির পর পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোকে সেই আস্থা পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা বাজার/এস এইচ






