ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারত প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ‘মোতায়েন’ করেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) এ খবর জানিয়েছে এনডিটিভি।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অস্ত্র পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সিপ্রির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতদিন পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলো বহনের উপযোগী ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য ডেলিভারি সিস্টেম নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করা হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই নীতির পরিবর্তন ঘটেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রথমবার ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে শুধু মজুত অবস্থায় নয়, বরং কার্যকরভাবে মোতায়েন বা অপারেশনাল অবস্থায় রাখা হয়েছে। সিপ্রি জানিয়েছে, ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে দ্রুত ব্যবহারের উপযোগী পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করা ভারতের পারমাণবিক প্রস্তুতির মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ারই ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন করে মোতায়েন করা ১২টি ওয়ারহেডের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক ওয়ারহেডকে সংশ্লিষ্ট ডেলিভারি সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে অথবা সেগুলোকে অপারেশনাল বাহিনীর ঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে।
সিপ্রির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারে সামান্য বৃদ্ধি ঘটেছে। একই সঙ্গে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিনে সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিচালিত হয়েছে প্রতিরোধমূলক টহল কার্যক্রম।
এক বছরে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র বেড়েছে
সোমবার প্রকাশিত সিপ্রির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের কাছে আনুমানিক ১৯০টি পারমাণবিক অস্ত্র ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এসব অস্ত্র বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিন নিয়ে গঠিত ভারতের ক্রমবিকাশমান পারমাণবিক ত্রয়ী।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো যে শান্তিকালীন সময়ে ভারত তার পারমাণবিক ওয়ারহেডগুলো মোতায়েনকৃত লঞ্চার থেকে আলাদা করে সংরক্ষণ করে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রকে ক্যানিস্টারে সংরক্ষণ এবং সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনার সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারত শান্তিকালেই কিছু ওয়ারহেডকে তাদের লঞ্চারের সঙ্গে সংযুক্ত রাখার দিকে অগ্রসর হতে পারে।
তবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘প্রথমে ব্যবহার নয়’ নীতি অনুসরণ করে ভারত। এই নীতির আওতায় দেশটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা কোনো পরিস্থিতিতেই প্রথমে পারমাণবিক হামলা চালাবে না। কেবলমাত্র ভারতের ভূখণ্ডে অথবা বিশ্বের যেকোনো স্থানে অবস্থানরত ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলা হলে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে।
বার্তা বাজার/এস এইচ






