ওমান উপকূলে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে ওই হেলিকপ্টারে থাকা দুই ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে ক্রুদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সারফেস ড্রোন (ডুবোযান) সমুদ্রের পানি থেকে ক্রুদের খুঁজে বের করে এবং উদ্ধার করে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস গতকাল সোমবার প্রথম ওমান উপকূলের হরমুজ প্রণালির কাছে এই অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার প্রকাশ করে।
এর আগে নিউ ইয়র্কে সোমবার রাতে এনবিএ-এর ফাইনাল খেলা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালির কাছে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নিয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘পাইলটরা ভালো আছেন, কেউ আহত হননি।’
সেন্টকম জানিয়েছে, আঞ্চলিক জলসীমায় নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ইরানের ওপর মার্কিন প্রশাসনের জারি করা নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে এর আগে এই অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলোকে ইরানের ছোট ছোট নৌকায় আক্রমণ চালাতে ব্যবহার করা হয়েছিল।
মূলত নিখুঁত হামলা, আকাশ থেকে স্থল সেনাদের সহায়তা দেওয়া এবং আকাশপথে রেকি বা গোয়েন্দা নজরদারির কাজে এই অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলো ব্যবহৃত হয়।
ইরান যুদ্ধে ৪২টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিবেদনইরান যুদ্ধে ৪২টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিবেদন
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর রোববার (৭ জুন) রাতে দুই পক্ষ আবারও সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় জড়িয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এই উত্তেজনা বৃদ্ধির পর এটিই প্রথম কোনো মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার হারানোর ঘটনা।
গত মে মাসে মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও সামরিক যান হারিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অন্তত ৫টি ফাইটার জেট (যুদ্ধবিমান), ৭টি স্ট্রাটোট্যাঙ্কার রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান, ১টি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার এবং ২৪টিরও বেশি ড্রোন।






