সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন-ভাতা নিয়ে বড় সুখবর, বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি টাকা
এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে। আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা সুপারিশ করা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পাবেন। বাকি ৫০ শতাংশ পাবেন পরের অর্থবছরে। এছাড়া ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন-ভাতা সবই পাবেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
নতুন অর্থবছর উপলক্ষে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে পেশ করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তব্যে কেন আংশিক সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, সে ব্যাখ্যাও দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী।
গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বাজেটের সীমাবদ্ধতা আছে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছি। অর্থনীতির অবস্থা খারাপ, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় রাজস্ব সংগ্রহের অবস্থা খারাপ। ফলে অনেক কিছু বাদ দিতে হচ্ছে ও কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তার মধ্যেও নতুন বেতনকাঠামোর দিকটা দেখতে হচ্ছে।’
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ আছে মোট ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। নতুন বেতন কমিশন সুপারিশ করেছিল, আগামী অর্থবছরের জন্য বাড়তি লাগবে এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। কমিশনের সুপারিশ আগামী অর্থবছরে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা দিতেই ব্যয় হবে এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে সরকার। এ কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ সংবলিত কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেয়।
ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাস পর নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে গত ২৩ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি তিন ধাপে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করে। অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো জানায়, সরকার শেষ পর্যন্ত এ সুপারিশই আমলে নিচ্ছে।
বেতন কমিশনের প্রতিবেদন তৈরির আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য, পুঞ্জীভূত মূল্যস্ফীতি, প্রতিবেশী দেশের বেতন-ভাতা, বেসরকারি খাতের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা, মানুষের জীবনমানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
গত মাসের মাঝামাঝি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী যখন বাজেটের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন, তখন সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় ছিল। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি যে তিন ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে, প্রধানমন্ত্রী তাতেই সম্মতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর অর্থমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগামী অর্থবছর অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামোর বাস্তবায়ন হবে। কীভাবে তা উত্তম উপায়ে করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।’
প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়ার পর গত ২১ মে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য আবার বৈঠক করে নাসিমুল গণির কমিটি। সূত্রগুলো জানায়, এ বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় যে আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন পাবেন।






