ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

চিকিৎসাধীন শিশুর মাকে হাসপাতালে ধর্ষণের অভিযোগ, তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী গ্রেপ্তার

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

চিকিৎসাধীন শিশুর মাকে হাসপাতালে ধর্ষণের অভিযোগ, তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী গ্রেপ্তার

নাটোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগে হাসপাতালের তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন অমিত (২৩), অনিল (২৩) ও প্রাঙ্গন (২৪)। আজ দুপুরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই দিন সকালে নাটোর সদর থানায় লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে পুলিশ।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামীর অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ডের পর অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলায় পুলিশ। দুপুরের মধ্যে তিন জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্ততি চলছে।’

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর দুই বছর বয়সী শিশুকন্যা অসুস্থ হয়ে পড়লে ৫ জুন তাকে নাটোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৮ জুন সকাল ১০টায় শিশুটির বাবা হাসপাতালে স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ নিতে এসে দেখেন তাঁরা কেউ সেখানে নেই। তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে হাসপাতালে নার্সদের থাকার একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন একটি বেডে তাঁর স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে শুয়ে আছেন।

এ সময় তাঁর স্ত্রী জানান, ৭ জুন সকাল ১০টায় শিশুর জন্য ওষুধ নিতে হাসপাতালের স্টাফ পরিচয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত তাঁকে ডাকতে আসেন। সন্তানকে রেখে তিনি অমিতের সঙ্গে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় গেলে সেখানে অনিল ও প্রাঙ্গণ নামে অপর দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সহায়তায় অমিত তাঁকে ধর্ষণ করেন। পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন অনিল ও প্রাঙ্গণ। ধষর্ণের ঘটনা জানালে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তাঁরা।

এদিকে, অসুস্থ শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে হাসপাতালের নার্সরা তার মাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। তাঁকে না পেয়ে হাসপাতালের সিসিটিভিতে দেখা যায় ষষ্ঠ তলার ঘটনাটি। তখন হাসপাতালের আনসার সদস্যরা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করেন। এ সময় ওই তিনজন বিনা বাধায় সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে ছয়তলার সিঁড়িতে গিয়ে তাদের পাই। এরপর তাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রথমে অভিযুক্তরা ঘটনাটি স্বীকার করেনি। পরে যখন ভুক্তভোগী নারী চড়াও হন তখন তারা সব স্বীকার করে।’

হাসপাতালের আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. মোন্নাফ হোসেন জানান, ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘অমিত আমাকে ধর্ষণ করেছে। বাকি দুজন ভিডিও করেছে মোবাইলে। অমিতের পর তারাও আমার সঙ্গে এমনটা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে সময় হাসপাতালের লোকজন এসে পড়ায় তারা পালিয়ে যায়।’

এ ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন