সাত বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদনে ৪২০ জনকে সদস্য করে একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়।
এর আগে ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট মাত্র ৫ সদস্যের আংশিক কমিটি দেওয়া হয়েছিল। এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ২৫ মাস পর চবি শাখা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্র।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আংশিক কমিটিতে ‘অছাত্র’ ছিলেন সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মামুন উর রশিদ মামুন (চাকসু নির্বাচনের আগে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে আজীবনের জন্য বহিষ্কৃত), সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সে আংশিক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মহসীন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে ২০০৮-০৯ সেশনে ভর্তি হন। কিন্তু তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র নন। সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান একই বিভাগের ২০০৯-১০ সেশনের। তবে তিনি ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিশেষ বিবেচনায় অর্থনীতি বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন।
সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মামুন উর রশিদ মামুন অর্থনীতি বিভাগের ২০০৯-১০ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনিও ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিশেষ বিবেচনায় অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন ইতিহাস বিভাগে ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র নন। সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় দর্শন বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিশেষ বিবেচনায় দর্শন বিভাগের মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন।
নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে এই ৫ জনকে রেখে আরও ৪১৫ জনকে যুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে চবি ছাত্রদল নতুন নেতৃত্ব পেল।
ছাত্রত্বের ব্যাপারে জানতে চাইলে সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘আমি ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী সময়ের আমার শিক্ষা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলমান রাখার জন্য বহুভাবে চেষ্টা করেছি। কিন্তু ছাত্রলীগ ক্যাডার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেসময়ের প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে আমার পড়ালেখা নিয়মিতভাবে চালাতে পারিনি। দলের দুঃসময়ে আমি সামনের সারীতে ছিলাম। এজন্য দল আমাকে ২০২৩ সালে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছে। দল আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি দায়িত্ব পালন করছি।’
ছাত্রত্বের ব্যাপারে জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন আগে আমি রাজপথে ছিলাম। জুলাই আন্দোলনেও সামনে ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, এটা দৃশ্যমান। আমি নিয়মিতভাবে অর্নাস শেষ করেছি। কিন্তু ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ক্যাডারদের জন্য আমি মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারিনি। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যখন নতুন বাংলাদেশে আমরা সুযোগ পাই; তখন আমি নিয়ম মেনে অর্থনীতি বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হই। এবং আমার শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রেখেছি।’
ছাত্রত্ব ও বহিষ্কারের ব্যাপারে জানতে চাইলে সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মামুন উর রশিদ মামুন বলেন, ‘আমি ৫ আগস্টের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারিনি, তবে আমি গত মাসে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছি। দল আমাকে বহিষ্কার করেছে, আমি দলের বাইরের কেউ নয়। আমাকে তারা আবার চাইলে আমি তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।’
ছাত্রত্বের ব্যাপারে জানতে চাইলে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, ‘আমার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, আমি এখন মন্তব্য করতে পারছি না।’
ছাত্রত্বের ব্যাপারে জানতে চাইলে সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মীরা আমাকে অর্ধমৃত করে ফেলে। আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে পারেনি। এজন্য আমি মাস্টার্স শেষ করে পারিনি। তবে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমি মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছি, এখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী। আমি চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে ভিপি পদে নির্বাচনও করেছি। অতএব আমার ছাত্রত্ব আছে। এবারের নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করেছিলাম।’
এদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর চবি শাখা ছাত্রশিবির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ছাত্রদলকে অভিনন্দন জানিয়েছে।






