ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া মোটামুটি সুষ্ঠু হলেও গণনায় বেশ কিছু আসনে কারচুপির অভিযোগ করেছেন জামায়াত ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। অবিলম্বে কারচুপি হওয়া আসনে প্রকৃত ফলাফল ঘোষণা করা না হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে ১১-দলীয় জোটের বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা পরিবর্তনের রাজনীতি করতে চেয়েছি। এটি দুর্বলতা নয়। তাই ঢাকা-১৩, ঢাকা-৮ ও দলের সেক্রেটারি গোলাম পরওয়ারের নির্বাচনী আসনসহ কয়েকটি জায়গায় ফলাফল ঘোষণায় যে অনিয়ম হয়েছে, সেটির সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিকার না পেলে আমরা রাজপথে নামব।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘দেশজুড়ে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের কর্মী-সমর্থক, এজেন্ট, ভোটারসহ বিভিন্ন জায়গায় বাড়িতে হামলা-অগ্নিসংযোগ বন্ধ না হলে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কর্মী-সমর্থক, এজেন্ট, ভোটারসহ বিভিন্ন জায়গায় বাড়িতে বাড়িতে হামলা হচ্ছে। ব্যক্তির ওপর হামলা হচ্ছে, বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা তো ফ্যাসিবাদী তৎপরতা। যে ফ্যাসিবাদের ধ্বংসস্তূপের ওপর ২০২৬ এর নির্বাচন হলো, সেই নির্বাচনের পর যদি আবারও একই ধরনের ফ্যাসিবাদী তৎপরতা আমরা দেখি, তাহলে এটা জাতির জন্য খুবই দুঃখজনক।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা এ ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হবে এর সম্পূর্ণ দায় তাদের নিতে হবে। আমরা চাইলেও তারা যদি ইতিবাচক ধারার রাজনীতি না চান, তাহলে আমরা জোর করে ইতিবাচক রাজনীতি করতে পারব না ‘ তিনি বলেন, ‘গণভোটে পাশ হওয়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় নয়।’
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের শেষ ভাগে ভোট কারচুপি করে অনেককে পাশ করানো হয়েছে। এটি মেনে নেওয়া হবে না। আমরা চেয়েছিলাম সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু সেটি কলঙ্কিত করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘শেষ সময়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। এজেন্টদের স্বাক্ষরিত কাগজে নতুন করে ভোটের অংশ লেখা হয়েছে। এটি মেনে নেওয়া যায় না।’






