ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংসতা, প্রাণহানি এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব সহিংসতা বন্ধে রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানোর পাশাপাশি হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আসক সব রাজনৈতিক দলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তৃণমূল পর্যায়ে অবিলম্বে কঠোর ও স্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে, যাতে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক সহিংসতা, হামলা, দখল, ভীতি প্রদর্শন বা নারী নির্যাতনের ঘটনা না ঘটে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনোই সহিংসতা বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বৈধতা দিতে পারে না।’
আসক জানায়, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কয়েকটি জেলায় সহিংস ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মুন্সীগঞ্জ জেলায় সহিংসতায় একজন নিহত হয়েছেন। একইভাবে বাগেরহাট জেলাতেও একজন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া সিলেট, কুমিল্লা, নরসিংদী, ফেনী, গাজীপুর, নাটোর, ঝালকাঠি, নড়াইল, পাবনা, বগুড়া, ফরিদপুর, বরগুনা, ঝিনাইদহ, চাঁদপুর, পটুয়াখালী, কিশোরগঞ্জ ও দিনাজপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলার বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনায় দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
একই সময়ে একজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যা শুধু ফৌজদারি অপরাধ নয়; বরং মানব মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছে আসক।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা হলো প্রতিটি নাগরিকের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা। বিশেষ করে নারী, সংখ্যালঘু ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মৌলিক দায়িত্বের অংশ।
একই সঙ্গে সহিংসতার প্রতিটি ঘটনা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানায় আসক। বিশেষ করে যৌন সহিংসতার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।
আসক মনে করে, নির্বাচন–পরবর্তী শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য।






