নরসিংদী-সহ সারাদেশে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও নারীর উপর সহিংসতার ঘটনাসমূহের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। এসময় ‘দড়ি লাগলে দড়ি নে ধর্ষকদের ফাঁসি দে’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ বের করে তারা। বিক্ষোভ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে সমবেত হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে বিক্ষোভকারীরা।
এসময় ‘ধর্ষকদের চামড়া তুলে নিবো আমরা; একটা একটা ধর্ষক ধর, ধরে ধরে জবাই কর; আবু সাঈদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ; চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ডাইরেক অ্যাকশন; ধর্ষকদের বিরুদ্ধে ডাইরেক অ্যাকশন; দড়ি লাগলে দড়ি নে ধর্ষকদের ফাঁসি দে; ধর্ষকদের কালো হাত ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও; দিন দুপুরে ধর্ষণ করে প্রশাসন কী করে’ ইত্যাদি স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।
ইবি শিক্ষার্থী রাহাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘গত ১৫ দিন আগে ধর্ষণ হওয়ার বিচারের জন্য আমাদের রাস্তায় নামতে হয়। এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক। আমরা দেখেছি— ধর্ষক কোনো একটি রাজনৈতিক দলের প্রশ্রয়ে রয়েছে। আমরা জানতে চাই- সেই রাজনৈতিক দলকে ধর্ষকদের পাহারাদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কি না। যদি তারা ধর্ষকদের পাহারাদার হিসেবে আবির্ভূত হয় তাহলে জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখাবে।’
আরেক শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী নেতা বাঁধন স্পর্শ বলেন, ‘নরসিংদীতে একজন কিশোরী মেয়েকে প্রথমে পাঁচ ছয়জন মিলে ধর্ষণ করার পরবর্তীতে সে বিচার চায় কিন্তু তাকে আবারো ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। এটা যারা করেছে তাদের আশ্রয়স্থল হলো- বিএনপি। যারা ধর্ষণ করেছে তাদের উপযুক্ত শাস্তি হিসেবে ফাঁসি দিতে হবে।অন্যথায় দলীয়করণের কারণে ধর্ষকদের প্রশ্রয় দিলে কিন্তু দেশের ছাত্রজনতা সেটাকে মেনে নিবে না। ছাত্ররা যেমন রাজপথে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রুখে দিয়েছিল। আপনাদের মতো দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সময় লাগবে না। সেই ১৯৯৬ সালে যখন ৪৫ দিনের মাথায় ইয়াসমিন নামক এক মেয়েকে নৃশংসভাবে গণধর্ষণ করায় বিএনপির সরকারের পতন ঘটে। যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ধরনের ধর্ষণের বিচার না করেন, সেই ইয়াসমিনের মতো আমেনার কারণে একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
শাখা ছাত্র শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকারিয়া হোসাইন বলেন, ‘যে দেশে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের বিচারের জন্য ছাত্র জনতাকে মাঠে নামতে হয় সেটা এই জাতি, ছাত্রসমাজ ও চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। আজ পর্যন্ত আমরা যতগুলো ধর্ষণের বিচারের দাবিতে মাঠে নেমেছি, একটিরও বিচার আমাদের দেশের মাটিতে হয়নি। দিন যায় দিন আসে ক্ষমতার পালাবদল হয়। আপনাদেরকে সর্তক করে দিতে চাই— আপনাদের ছত্রছায়ায় নাম ও ক্ষমতা ব্যবহার করে, যে বা যারা এসকল কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে তাদের লাগাম টেনে ধরুন। নয়তো ছাত্র জনতা, বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশ আপনাদের লাগাম টেনে ধরবে। বিএনপি সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে আপনারা সকল ধর্ষণের বিচার করুন।’
মিডিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘দেশে যখন দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ধর্ষণ, খুন, হয়রানি করা হচ্ছে তখন একদল ভাই ভারতীয় তারকার বিয়ে নিয়ে ফেসবুক গরম করছেন। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে কী করেন, প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে কোন প্রোগ্রামে হেঁটে যাচ্ছেন এসব অযাচিত ঘটনা প্রতি মিনিটে মিনিটে দালাল মিডিয়াগুলো প্রচার করতে থাকে। কিন্তু ধর্ষণ-খুনের আপডেট এ দালাল মিডিয়াগুলো থেকে পাওয়া যায় না।’






