বাংলাদেশ দণ্ডবিধি দায়িত্বে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু, ৩০৪ ধারার ক আইনে মামলাটি করেছেন নিহত সোহাগ রানার খালা শেফালী আক্তার। তিনিও ওই বাসে ছিলেন।
কুমিল্লায় ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় মামলায় এক নম্বর আসামি গেইটম্যান হেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাকে কুমিল্লার শশীদল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার তহুরা জান্নাত।
অপর পলাতক আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ ঘটনায় মামলার পর থেকে র্যাব মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর র্যাব বিস্তারিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানাবে বলে জানা গেছে৷
এর আগে, সোমবার পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ের গেইটম্যান হেলাল উদ্দিন ও ওয়েম্যান মেহেদী হাসানকে আসামি করে লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলা করেন আহত বাসযাত্রী শেফালী আক্তার। তিনি দুর্ঘটনায় নিহত সোহেল রানার খালা, তার বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীমউদ্দীন বলেন, ‘বাংলাদেশ দণ্ডবিধি দায়িত্বে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু, ৩০৪ ধারার ক আইনে মামলাটি করেছেন নিহত সোহাগ রানার খালা শেফালী আক্তার। তিনিও ওই বাসে ছিলেন।’
ওসি জসীমউদ্দীন আরও বলেন, ‘মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহেল রানা ঈদ করতে দেশে আসেন চুয়াডাঙ্গা বাড়িতে। সেখান থেকে ঈদের দিন কুমিল্লার লাকসামে খালার বাড়িতে বেড়াতে আসার সময় বাজার লেভেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। একই দুর্ঘটনায় আহত সোহেল রানার স্ত্রী ও মেয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’
গত শনিবার ঈদের দিন ভোররাতে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লেভেল ক্রসিংয়ে ঢাকা মেল ট্রেনের ঢাকায় মামুন স্পেশাল নামের একটি বাসের ১২ জন যাত্রী নিহত হয়। এছাড়াও গুরুতর আহত হয় অন্তত আট জন যাত্রী। এই ঘটনায় পদুয়ার বাজার এলাকায় রেলের গেইটের দুই দায়িত্বরত কর্মচারী হেলাল ও মেহেদীকে বরখাস্ত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের দাবি, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রেন আসার সময় বাজার রেলওয়ে ওভার পাশে লেভেল ক্রসিং এ গেট সময় মত বন্ধ করতে পারেনি দুই গেইট ম্যান। এতে ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনা হয়।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






