ফেনীতে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন ভিপির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ইটভাটার মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেছে আবু সুফিয়ান নামে এক আইনজীবী ও জেলার সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মীর সবুজ।
চাঁদা না দেওয়ায় ভাটা মালিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে আইনি নোটিসও। আবু সুফিয়ান ঢাকা বারের আইনজীবী ও বিএনপিপন্থি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ফেনী জেলা শাখার সদস্য এবং মীর সবুজ ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ছাড়াও সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
জানা যায়, গত ১৫-১৬ দিন পূর্বে আবু সুফিয়ানের হয়ে ফাজিলপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মীর সবুজ খাইয়ারা ব্রিকসে চাঁদা দাবি করে। এরমধ্যে দুই কিস্তিতে তার হয়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নেয় যুবদল নেতা মীর সবুজ। এরপরও তার চাহিদামতো দেড় লাখ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কয়েকদিন পর আবু সুফিয়ান এ ফিল্ডের মালিককে একটি আইনি নোটিস পাঠায়। একইভাবে আমিন ব্রিকস, আরিফ ব্রিকস ও শুক্কুর ব্রিকস নামে আরো কয়েকটি ব্রিকসে আইনি নোটিস পাঠায় আবু সুফিয়ান।
নোটিসে আবু সুফিয়ান নিজেকে সামাজিক পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্বাচন পর্যবেক্ষক, প্রশাসনিক সমন্বয়ক ও আইনজীবী দাবি করেন।
খোঁজ নিয়ে যায় যায়, অভিযুক্ত আবু সুফিয়ান নির্বাচনকালীন সময়ে আবদুল আউয়াল মিন্টু ও জয়নাল আবেদিন ভিপির নির্বাচনি সহায়তা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক লিগ্যাল কমিটির সদস্য থাকলেও নির্বাচনের পরবর্তীতে এ কমিটির কার্যকারিতা নেই বলে জানিয়েছে জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র।
খাইয়ারা ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী এটিএম নুরুল আবছার বলেন, ‘মীর সবুজ নামে এ যুবদল নেতা সুফিয়ানকে নিয়ে তার কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এরপর অন্য একদিন ২০ হাজার ও আরেকদিন সুফিয়ান ঢাকা যাচ্ছে বলে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এর কয়েকদিন পর আরো টাকা চেয়ে, না পেয়ে আইনি নোটিস পাঠায়।’ আমিন ব্রিকসের স্বত্বাধিকারীদের সরোয়ার আমিন তানভীর জানান, একই দাবিতে তাকেও আইনি নোটিস পাঠায় সুফিয়ান। এ নিয়ে তার সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীতে তার পরিচয় বের করে ভুয়া বলে জানতে পারি।
ধলিয়ার শুক্কর ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী আব্দুস শুক্কুরের ছেলে জানান, ‘তাদেরকে যে নোটিস দিয়েছে, সেখানে অনেক ভুল রয়েছে। ফলে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আবু সুফিয়ান বলেন, ‘এ তিনটা ব্রিকসের কারণে তার আত্মীয়স্বজনরা ক্ষতিগ্রস্ত। এ তিনটিরই পরিবেশের ছাড়পত্র নেই। এ জন্য আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন এবং রিট করেছেন। কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন, দাবি করে তিনি আরো বলেন, তার কাছে রিটের অর্ডারও আছে।
যুবদল নেতা মীর সবুজ বলেন, ‘চাঁদা নিয়েছি, প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দিব। তবে মজনুর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,‘ সে আমার জমির ওপর দিয়ে মাটির গাড়ি নিয়েছে, এ জন্য তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন।’
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাত জানান, নির্বাচনের আগে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে মীর সবুজকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার কোনো কর্মকাণ্ডের দায় যুবদল নেবে না।
বার্তা বাজার/এস এইচ






