কোনো মানসিক বিকারগ্রস্তকে রক্ষার দায়িত্ব ছাত্রদল নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া এক পোস্টে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে উদ্দেশ্য করে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ছাত্রদল সভাপতি লিখেছেন, ‘গতকাল এবং আজ (বৃহস্পতিবার) ক্যাম্পাসগুলোয় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল অত্যন্ত ধৈর্য ও সহনশীলভাবে মোকাবিলা করেছে। দুটো ঘটনাই গুপ্ত রাজনীতি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম নোংরামির অশ্লীল ফটোকার্ডকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এই ২টি ইস্যুতে বিগত প্রায় ২ বছর যাবত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদ জারি রেখেছে।’
সবাইকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম শেষে ইসলামি ছাত্র শিবির-সহ সব পক্ষকে অনুরোধ করছি, আমরা কেউ যেন নতুনভাবে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হই। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ইতোমধ্যে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, তারা নিজেরা কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারবে না এবং কারও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে প্রতিক্রিয়া দেখানো যাবে না।’
রাকসু জিএসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে প্রতিনিয়ত সেই পরিস্থিতি তৈরি করছে। আজ উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাহউদ্দিন আম্মার আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছে। বিগত সময় বিকৃত মানসিকতার সালাহউদ্দিন আম্মার জিয়া পরিবারকে নিয়ে বিভিন্ন অশ্লীল, নোংরা স্ট্যাটাসই শুধু নয়, আজ ছাত্রদলকে… ভাষায় গালি দিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছে।’
ছাত্রদলের অবদান স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আম্মারকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, ছাত্রদল শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বা রাজশাহী জেলা, মহানগর ইউনিটে সমৃদ্ধ নয়, আম্মারের জন্মস্থান- যেখানে তার শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতাসহ পরিবারের সদস্যরা বসবাস করেন, সেখানে যেমন ছাত্রদল রয়েছে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, জেলা, মহানগর, উপজেলায় ছাত্রদলের লাখো লাখো নেতা-কর্মী রয়েছে। ৫ আগস্টের পর এই সালাহউদ্দিন আম্মারদের আবির্ভাব, কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা দীর্ঘ সাড়ে পনের বছর হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রামে উত্তীর্ণ।’
ছাত্রদল সভাপতি আরও বলেন, ‘তারা মজলুম, তারা নির্যাতিত, তারা নিপীড়িত। অথচ সেই মজলুমদের বিরুদ্ধেই ৫ আগস্টের পরবর্তী সময় আবির্ভাব সালাহউদ্দিন আম্মার আজ এ ধরনের অশ্রাব্য ভাষায় প্রতিনিয়ত গালি দিয়ে যাচ্ছে, চরিত্র হরণ করে যাচ্ছে। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের-সহ ছাত্র সমাজের নিকট নিবেদন রাখলাম, সেই সঙ্গে যে ছাত্র সংগঠন আম্বারকে বি টিম হিসেবে প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছে, তাদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
রাকসু জিএসকে সংশোধন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাকিব লিখেছেন, ‘সালাহউদ্দিন আম্মারকে বলছি, কোনো মানসিক বিকারগ্রস্তকে রক্ষার দায়িত্ব ছাত্রদল নেয়নি। ৭১-এর লাখো শহিদের রক্তে কেনা এবং জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কয়েক হাজার ছাত্র জনতার রক্তে কেনা বাংলাদেশে কেউ অপকর্ম করে রক্ষা পায়নি, ভবিষ্যতেও রক্ষা পাবে না। সংশোধন হওয়ার আহ্বান জানাই।’
দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, ‘সালাহউদ্দিন আম্মারসহ সবাইকে গণতান্ত্রিক ভাষায় গঠনতান্ত্রিক সমালোচনা করার জন্য আহ্বান রইল, আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সমালোচনা, প্রয়োজনে রাজপথে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন। কিন্তু অশ্লীল, নোংরামি চিরতরে বন্ধ করুন। ক্যাম্পাস ও শিক্ষার পরিবেশকে স্বাভাবিক রাখার জন্য এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব, সেই কামনা করছি।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে করা এক পোস্টে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার লিখেছিলেন, ‘… বাচ্চাদের দাঁত উঠলে প্রথম বাপের পাছায় কামড়াইয়া দাঁতের ধার চেক করে। আজ ছাত্রদলের …রা শাহাবাগ থানার মধ্যে হামলা করেছে Musaddiq Ali Ibne Mohammad আর AB Zubair-রে। এত সহজে বাপ ভুলে যাইতেছে কুকুরগুলা।’
এদিকে এই পোস্টের ১ ঘণ্টা পর আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এখন যদি বলি, এই পুরো অস্থিতিশীল পরিবেশের জন্য তারেক সাহেব দায়ী? বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল তারেক সাহেবকে তাদের দলের পলিটিক্যাল নবীর মতো দেখে। তার মুখের একটি কথা সারাদেশের সমর্থকদের কাছে বেদবাক্যের মতো। নির্বাচনি প্রচারণার সময় তারেক সাহেব এই ‘গুপ্ত’ বিষয়টি তার মুখ দিয়ে বের করে জামায়াত-শিবিরবিরোধী বিদ্বেষের জন্ম দিয়েছেন। হাসিনার মুখে ‘রাজাকার’ শব্দটি তার পতন ডেকে এনেছে। তারেক সাহেব আপনার ‘গুপ্ত’ শব্দটিও সারাদেশে সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে। এই শব্দটিই আপনার পতনের কারণ হতে পারে।’
বার্তা বাজার/এস এইচ






