গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে বিএনপি সরকার ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ আবার অস্থিরতা ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। নতুন সরকারের উচিত অর্থনীতি, সুশাসন ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির সংঘাত এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো পর্যালোচনা করা উচিত।
এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রাসেলস-ভিত্তিক সংগঠনটির ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের নতুন সরকারের যাত্রাবিষয়ক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
এতে বলা হয়, শেখ হাসিনার দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধ্যায় শেষ করার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ ছিল নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তর। নতুন সরকারের প্রতি ভোটারদের স্পষ্ট জনরায় রয়েছে। তবে তারা দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারবে কিনা, তা এখনও অনিশ্চিত। অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি, রাজনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়া এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে প্রশ্নের মোকাবিলাসহ কয়েকটি বড় ধরনের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে বিএনপিকে। সরকারের উচিত পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা এবং যারা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি নন, তাদের জামিন দেওয়া। বিচারিক প্রক্রিয়ার বৈধ দাবিগুলোর প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকা উচিত।
আইসিজি বলছে, জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানিতে বাংলাদেশকে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা তাদের চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী মাসগুলোতে রাজনৈতিক সংস্কার উত্তপ্ত বিষয় হয়ে উঠতে পারে। সংবিধান সংশোধনী বিষয়ে বিএনপি কী ধরনের পরিবর্তন গ্রহণ করবে, তা স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া এই সরকার তরুণদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যর্থ হলে আবারও অস্থিরতা হতে পারে। জুলাই সনদের ৯টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি দ্বিমত পোষণ করেছিল। এগুলো পুরোপুরি উপেক্ষা করা হলে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিএনপির মনে রাখা উচিত, গণভোটে জুলাই সনদের প্রতি জোরালো সমর্থন মূলত প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক জনদাবির প্রতিফলন, যার মধ্যে বিএনপির স্বাক্ষর না করা সংস্কার প্রস্তাবগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের সামনে অন্যতম জটিল রাজনৈতিক প্রশ্ন হলো আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ। বিএনপির প্রতিপক্ষগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগই বৃহত্তম বিরোধী দল।
বার্তা বাজার/এস এইচ






