ঢাকা   রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

শহিদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত সেই খাল পুনঃখননে সোমবার যশোর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৬ এএম

শহিদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত সেই খাল পুনঃখননে সোমবার যশোর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ পাঁচ দশক পর এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে যশোরবাসী। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান যে স্থানে নিজ হাতে কোদাল ধরে দেশের প্রথম স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন, ঠিক সেই উলাশী-যদুনাথপুর খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোর আসছেন তারই পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সফরকালে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনসহ আরো কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- যশোর মেডিকেল কলেজে পাঁচশ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন ও যশোর ঈদগাহে জেলা বিএনপির আয়োজনে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে ভাষণ প্রদান।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে শুধু শার্শা উপজেলা নয়, গোটা যশোর জেলা জুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভিতরেও বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই সফরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা যশোরের একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্পের চাকা সচল হবে।

১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর উলাশী-যদুনাথপুরে সাড়ে চার কিলোমিটার খাল খননের উদ্বোধন করতে হেলিকপ্টারে করে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। উলাশী গ্রামের প্রবীণ আবদুল বারিক মণ্ডল সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “রাষ্ট্রপতি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়ি ভরে আমার ভাইয়ের মাথায় তুলে দিয়েছিলেন। নিজের মাথায় পরেছিলেন কৃষকের টোকা (মাথাল)।”

তিনি আরও জানান, সেই কর্মসূচির ফলে উত্তর শার্শার পাঁচটি বড় বিলের পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়েছিল, যা বদলে দিয়েছিল এলাকার কৃষি অর্থনীতি। দীর্ঘ ৫০ বছরে সংস্কারের অভাবে সেই খালটি আজ ভরাট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেই খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে তার পিতার উন্নয়ন দর্শনেরই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে যাচ্ছেন। এতে এলাকার মানুষের আবারও উপকার হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি বলেন, উলাসী খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল খনন কমসূচির উদ্বোধন করবেন। আশা করছি মৃতপ্রায় খালটি প্রাণ ফিরে পাবে।

যশোর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছরে উলাশী-যদুনাথপুর খাল সংস্কার না করায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সেই খাল পুনঃখনন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৫০ বছর আগে জিয়াউর রহমানের নিজে হাতে কোদাল নিয়ে খনন করা সেই খালটি পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনে আগামী ২৭ এপ্রিল আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা সকল ধরনে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর সফল করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার আগমনের মধ্যদিয়ে যশোর উন্নয়নের চাকা সচল হবে।’

যশোরবাসীর একগুচ্ছ দাবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে একগুচ্ছ দাবিতে সোচ্চার যশোরবাসী। দাবির মধ্যে রয়েছে যশোর সিটি কর্পোরেশন, যশোর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, যশোর জেনারেল হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ও কিডনি ডায়ালোসিস সেন্টার চালু, ভোরবেলা বেনাপোল থেকে যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে আরো একটি আন্তঃনগর ট্রেন এবং দর্শনা (গেদে সীমান্ত) থেকে যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে দুইটি আন্তঃনগর ট্রেন দিতে হবে। ঢাকা-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল বা দর্শনা সীমান্ত রুটে অন্তত: একটি লোকাল ট্রেন দিতে হবে। দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডবল লাইন রেলপথ চালু করতে হবে; সুবিধাজনক যে কোন স্টেশনে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল (আইসিটি) স্থাপন করতে হবে; সকল আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণ বগি যুক্ত করতে হবে।

বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর শাখার সাধারণ সম্পাদক তসলিম উর রহমান বলেন, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাশ্ববর্তী ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা জেলাসহ দূর-দগূরন্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। কিন্তু হাসপাতালটিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। চিকিৎসা সেবা ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। করোনাকালীন এখানে স্থানীয়ভাবে ১০ শয্যার অপূর্ণাঙ্গ আইসিইউ চালু করা হয়। হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ’র সমস্ত যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন পড়ে আছে। এর প্রধান কারণ আইসিইউ পরিচালনার জন্য কোন জনবল নিয়োগ করা হয়নি। ফলে চিকিৎসা সুবিধা থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে, হাসপাতালে একটি কিডনি ডায়ালোসিস সেন্টার অনুমোদন দেওয়া হলেও তা চালু করা কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে জেলার ৩১ লাখ মানুষসহ পার্শ্ববর্তী চার জেলার ৭০ লক্ষাধিক মানুষ আধুনিক চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত।

এ বিষয়ে যশোর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির নেতা অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত যশোর বাংলাদেশের কৃষি ফসল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ধান, পাট, তেলবীজ, খেজুরগুড়ের পাশাপাশি সবজি উৎপাদনে যশোর অনন্য। ঝিকরগাছার গদখালির বাণিজ্যিক ফুল উৎপাদন দেশের ৭০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। চাঁচড়ার রেণুপোন উৎপাদন দেশব্যাপী মৎস্যচাষিদের কাছে সুপরিচিত। গবাদি পশুপালন ও পোল্টি শিল্পের মাধ্যমে আমিষের চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। যশোর জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সময়ের দাবি। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি বিপ্লবের সূতিকাগার হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!