নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতালটিতে এখন অতিরিক্ত টাকা না গুনলে মিলছে না ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা। সরকারের নির্ধারিত ৩ টাকার বহির্বিভাগ টিকিট ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে অনুসন্ধান ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এই কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে গড়ে ৫০০-এর বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি টিকিটের মূল্য মাত্র ৩ টাকা নির্ধারিত থাকলেও টিকিট কাউন্টারে কর্মরতরা প্রতিটি রোগীর কাছ থেকে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা করে আদায় করছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা আকাশকুড়ি এলাকার মোছাঃ রিফা বেগম (৪৫), সরদার হাটের হাবিবুর রহমান (৬০), ডাঙ্গাডাঙ্গার জুয়েল রানা (২৫) এবং ডালিয়া এলাকার বিলকিস আক্তারসহ (৫০) একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, টিকিট কাউন্টারে গেলেই জানানো হয় প্রতিটি টিকিটের মূল্য ৫ টাকা। নিরুপায় হয়ে দরিদ্র রোগীরা অতিরিক্ত দামেই টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
অনিয়মের এক চরম পর্যায়ে দেখা যায়, এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীর কাছ থেকে টিকিটের মূল্য বাবদ ১০ টাকা রাখা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের কাছে ওই নারী অভিযোগ করলে এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কাউন্টার থেকে তড়িঘড়ি করে তাকে ৭ টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা জামেদ আলী ও মামুন বলেন,“খুচরা টাকা না থাকলে কখনও কখনও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হয়। আবার কেউ কেউ ২ টাকাও দেন। তবে এটি নিয়মিত কোনো বিষয় নয়। আরও বেশি কিছু জানার থাকলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (ইউএইচএফপিও) রুমে কথা বলেন।”
এদিকে হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন প্রকাশ্য লুটপাটের বিষয়ে কথা হলে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুজ্জামান বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি টিকিটের নির্ধারিত মূল্য মাত্র ৩ টাকা। এর অতিরিক্ত এক পয়সাও নেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। আমি দ্রুত খোঁজ নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
বার্তা বাজার/এস এইচ






