ঢাকা   রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ই’স’রা’ই’লি বাহিনীর ঘুম হারাম করছে হি’জ’বু’ল্লা’হ’র ‘ফাইবার-অপটিক ড্রো’ন’

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০৩:১২ পিএম

ই’স’রা’ই’লি বাহিনীর ঘুম হারাম করছে হি’জ’বু’ল্লা’হ’র ‘ফাইবার-অপটিক ড্রো’ন’

দক্ষিণ লেবাননের আকাশে নিচু দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল বিস্ফোরকবোঝাই একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ভবনের মাঝ দিয়ে ও কাঁচা রাস্তা অনুসরণ করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এগোচ্ছিল সেটি। ড্রোনটির ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল লক্ষ্যবস্তু—একটি ইসরাইলি ট্যাংক এবং তার পাশে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন সেনা।

স্ক্রিনের ওপরে সাদা অক্ষরে ভেসে উঠেছিল দুটি শব্দ—‘বোমা প্রস্তুত’।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ছিল একটি ফাইবার-অপটিক ড্রোন, যা সাম্প্রতিক সময়ে হিজবুল্লাহ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ব্যবহার করছে। এ ধরনের ড্রোন শনাক্ত করা যেমন কঠিন, তেমনি এগুলোকে প্রতিহত করাও জটিল। কারণ এগুলো কোনো বেতার সংকেত ব্যবহার করে না, ফলে ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রযুক্তি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত করা সম্ভব হয় না।

ইসরাইলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইয়েহোশুয়া কালিস্কি বলেন, ‘এই ড্রোনগুলো যোগাযোগ জ্যামিংয়ের বাইরে থাকে। কোনো ইলেকট্রনিক সিগনেচার না থাকায় কোথা থেকে এগুলো চালানো হয়েছে সেটিও শনাক্ত করা যায় না।’

রোববার প্রকাশিত হিজবুল্লাহর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েক কেজি ওজনের কোয়াডকপ্টার ড্রোনটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে, অথচ ইসরাইলি সেনারা তার উপস্থিতি টেরই পাননি। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ওই হামলায় ১৯ বছর বয়সি সার্জেন্ট ইদান ফুকস নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। আহতদের সরিয়ে নিতে আসা একটি উদ্ধার হেলিকপ্টার লক্ষ্য করেও পরে আরও ড্রোন হামলা চালায় হিজবুল্লাহ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাইবার-অপটিক ড্রোনের কার্যকারিতা এর সরল প্রযুক্তিতেই। সাধারণ ড্রোনের মতো বেতার সংকেতের মাধ্যমে নয়, বরং একটি ফাইবার-অপটিক তারের মাধ্যমে সরাসরি অপারেটরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে ড্রোনটি।

ইসরাইলি সামরিক সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, অত্যন্ত পাতলা ও হালকা হওয়ায় এই তার খালি চোখে প্রায় দেখা যায় না। এটি ১৫ কিলোমিটার বা তারও বেশি দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। ফলে অপারেটর নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করেও লক্ষ্যবস্তুর উচ্চ রেজুলেশনের সরাসরি ভিডিও দেখতে পারেন।

ড্রোন মোকাবিলায় এতদিন প্রযুক্তিগত সুবিধার ওপর নির্ভর করেছে আইডিএফ। তারা সাধারণত ড্রোন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত সংকেত ও ফ্রিকোয়েন্সি জ্যাম করে হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করে। কিন্তু ফাইবার-অপটিক ড্রোন কোনো সংকেত ব্যবহার না করায় সেই কৌশল এখানে কার্যকর হচ্ছে না। একই সঙ্গে আগত ড্রোন শনাক্ত করাও আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এক ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘জাল বা অন্যান্য শারীরিক বাধা ছাড়া খুব বেশি কিছু করার নেই। এটি অসম যুদ্ধের জন্য তৈরি একটি নিম্নপ্রযুক্তির ব্যবস্থা।’

ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রথম ব্যাপকভাবে দেখা যায় ফাইবার-অপটিক ড্রোনের ব্যবহার। সেখানে রুশ বাহিনী অত্যন্ত কার্যকরভাবে এই প্রযুক্তি কাজে লাগায়। পরে রাশিয়া ড্রোনের সঙ্গে একটি বেস ইউনিট যুক্ত করে অপারেটরকে আরও দূরে সরিয়ে রাখতে সক্ষম হয়, যা অপারেটরের নিরাপত্তা বাড়ায় এবং তাকে লক্ষ্যবস্তু করা আরও কঠিন করে তোলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর কৌশল কিছুটা ভিন্ন। ইসরাইলি ঘাঁটিগুলো সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় বড় সরবরাহ লাইন লক্ষ্য করার সুযোগ কম। তাই হিজবুল্লাহ মূলত দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরাইলে অবস্থানরত ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করছে।

সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ গবেষক স্যামুয়েল বেনডেট বলেন, ‘অভিজ্ঞ অপারেটরের হাতে এবং প্রতিপক্ষ প্রস্তুত না থাকলে এটি অত্যন্ত কার্যকর অস্ত্র হতে পারে। এমনকি প্রতিপক্ষ সতর্ক থাকলেও এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।’

ইসরাইলের ধারণা, হিজবুল্লাহ চীন বা ইরান থেকে বেসামরিক ড্রোন আমদানি করে এবং সেগুলোর সঙ্গে গ্রেনেড বা অনুরূপ বিস্ফোরক যুক্ত করে। এর ফলে অত্যন্ত নিখুঁত কিন্তু কম খরচের এক ধরনের অস্ত্র তৈরি হচ্ছে, যা ছোট পরিসরে লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় কার্যকর।

চীন এর আগে এ সংঘাতে কোনো পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলার কথা জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় হিজবুল্লাহ বড় ধরনের রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার গড়ে তুলেছিল। গাজা যুদ্ধ শুরুর আগে ইসরাইলি কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন, হিজবুল্লাহর কাছে প্রায় দেড় লাখ রকেট ছিল। তবে যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলি হামলা ও ব্যাপক ব্যবহারজনিত কারণে এখন তাদের হাতে আগের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ রকেট অবশিষ্ট রয়েছে বলে মনে করছে ইসরাইল।

সামরিক শক্তি ও প্রযুক্তিতে ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা সম্ভব না হওয়ায় হিজবুল্লাহ এখন অসম যুদ্ধকৌশলের ওপর বেশি নির্ভর করছে, যা ইরানও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছে।

আইডিএফ বর্তমানে জাল ও অন্যান্য শারীরিক প্রতিরোধব্যবস্থা ব্যবহার করছে। তবে ইসরাইলি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এটি পুরোপুরি কার্যকর নয়।

এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়, যতটা আমরা চাই।’ তিনি জানান, ফাইবার-অপটিক ড্রোন মোকাবিলায় নতুন কৌশল উদ্ভাবনে গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে আইডিএফ। তবে হুমকি এখনও রয়ে গেছে।

তার ভাষায়, ‘এটি এমন একটি হুমকি, যার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা আমরা এখনও চালিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ একসঙ্গে একাধিক ড্রোন হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। তারা দ্রুত শিখছে এবং সমন্বিত হামলার চেষ্টা করছে।’

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!