কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে আটকের প্রতিবাদে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা ঘেরাও করেছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ১১ ঘণ্টা পার হলেও থানার সামনে থেকে সরেননি তারা। রবিবার (০৩ মে) রাত ১১টা পর্যন্ত থানার সামনে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিক্ষোভ চলছিল।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে শহরের শাসনগাছা এলাকার বাসা থেকে তাকে আটক করেন কোতোয়ালি মডেল থানা ও জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। তবে আটকের ১০ ঘণ্টা পর আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। রাত ১০টা ১০ মিনিটে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরীফ ইবনে আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এর আগে সন্ধ্যায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ারের কক্ষ থেকে রেজাউল কাইয়ুমকে থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করলেও পুলিশের কোনও কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।
পরিদর্শক শরীফ ইবনে আলমের কক্ষে গিয়ে সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে কথা বলবেন বলে সাংবাদিকদের অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেন। প্রায় ৮ মিনিট পর তিনি এসে সাংবাদিকদের জানান, রেজাউলকে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সোমবার আদালতে পাঠানো হবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হলে ছেড়ে দেওয়া হবে।
এত দীর্ঘ সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলেই একটি সিদ্ধান্তে আসবেন। এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’
আর কত সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে এবং কোন কোনও অভিযোগে আটক করা হয়েছে জানতে চাইলে পরিদর্শক শরীফ ইবনে আলম বলেন, ‘এখন নির্দিষ্ট করে অভিযোগের বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। আর সময়ের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কথা বলবেন।’
দুপুরে আটকের পর ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশে রেজাউল কাইয়ুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় আনা হয়েছে। কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সেটি তারা ভালো বলতে পারবেন। এখনও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি। কিছু লোকজন থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন। আমরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করছি।
রাত ১১টার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা সামনে দেখা গেছে, নেতাকর্মীরা থানার গেটের সামনে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে অনেকে পরিবহনশ্রমিক। থানার গেটের বাইরে অবস্থান করছেন তারা।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেখা গিয়েছিল, শতাধিক নেতাকর্মী থানায় ঘেরাও করেছেন। এ সময় তাদের ‘রেজাউল ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’, ‘জেলের তালা ভাঙবো, রেজাউল ভাইকে আনবো’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে থানার প্রধান ফটক আটকে দেওয়া হয়েছে। বাইরে পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ারকে বাইরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে উত্তেজিত নেতাকর্মীদের কেউই পুলিশের কথা শুনছেন না।
এদিকে রেজাউলকে আটকের প্রতিবাদে শাসনগাছা টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে টার্মিনাল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে বাস চলাচল শুরু হয়।
রাত ১১টার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা সামনে দেখা গেছে, নেতাকর্মীরা থানার গেটের সামনে অবস্থান করছেন
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে রেজাউলকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কুমিল্লার অন্যতম বৃহৎ শাসনগাছা বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আছে।
আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলম বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সভাপতিকে থানায় আনা হয়েছে; জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে। তিনি যেহেতু আমাদের সভাপতি, এজন্য আমরা সাংগঠনিক কারণে থানায় এসেছি। তবে তাকে কেন থানায় আনা হয়েছে, সেটি আমরা জানি না। বাস টার্মিনালের কোনও বিষয়ে তিনি যুক্ত নন। শ্রমিকরা তাকে (রেজাউল) ভালোবেসে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি।’
আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমরা ১০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে থানার সামনে অবস্থান করছি। আর কত ঘণ্টায় গড়ালে নেতাকে পুলিশ ছাড়বে, তা জানি না। তারাও কিছু বলছে না। আমরা অপেক্ষায় আছি।’






