ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

এক মাসেরও বেশি সময় পর উল্টোপথে স্বর্ণের দাম

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

এক মাসেরও বেশি সময় পর উল্টোপথে স্বর্ণের দাম

এক মাসেরও বেশি সময় পর উল্টোপথে স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : টানা পতনের ধাক্কা সামলে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে স্বর্ণের দাম। এক মাসেরও বেশি সময় পর উল্টোপথে স্বর্ণের দাম, সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যাওয়ার পর মঙ্গলবার দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে এই ঊর্ধ্বগতি খুব শক্তিশালী নয়। জ্বালানি তেলের চড়া দাম আর বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কার ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গ্রিনিচ মান সময় মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ২টা ৩০ মিনিটে, স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪১.৩৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের সেশনে ২ শতাংশের বেশি ধস নামার পর ৩১ মার্চের পর সবচেয়ে নিচে নেমে গিয়েছিল সোনা। একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারও কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৫০.৭০ ডলারে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেই সোনা এখন নিজেকে স্থির করার চেষ্টা করছে। বাজার বিশ্লেষক ইলিয়া স্পিভাকের ভাষায়, যুদ্ধের প্রভাবে চাপ কাটিয়ে বাজারে এখন কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে স্বস্তিটা খুব বেশি সময়ের জন্য নাও হতে পারে। কারণ তেলের দাম বাড়তে থাকায় মুদ্রাস্ফীতির ভয় আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে। এর ফলে বন্ডের মুনাফা বাড়ছে, ডলার শক্তিশালী হচ্ছে— আর এই দুই শক্তিই স্বর্ণের দামে বড় বাধা।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের জেরে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। ডলারের মান বাড়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা এখন আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে, যা চাহিদায় প্রভাব ফেলতে পারে।

অর্থনীতির হিসাবটা এখানেই জটিল। তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে— এতে সোনা সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গুরুত্ব পায়। কিন্তু একই সঙ্গে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তখন বিনিয়োগকারীরা সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়ে, ফলে স্বর্ণের গুরুত্ব কমে যায়। অর্থাৎ স্বর্ণের জন্য এটি এক ধরনের ‘দুই দিকের চাপ’।

রয়টার্স বলছে, এ মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের চোখ রয়েছে ফেডারেল রিজার্ভের দিকে। চলতি বছরে সুদের হার কমার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বরং বাজারের পূর্বাভাস বলছে, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এখন ৩৭ শতাংশ—যা মাত্র এক সপ্তাহ আগেও ছিল একেবারে ভিন্ন চিত্র।

এদিকে সামনে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য—কর্মসংস্থানের সুযোগ, এডিপি রিপোর্ট এবং এপ্রিলের পে-রোল ডেটা। এই তথ্যগুলোই নির্ধারণ করতে পারে ভবিষ্যতে সুদের হার কোন দিকে যাবে, আর তার ওপর নির্ভর করছে স্বর্ণের বাজারের গতিপথ।

অন্য ধাতুর বাজারেও ইতিবাচক হাওয়া বইছে। স্পট সিলভার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৩.০৩ ডলারে, প্লাটিনাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৭০.৮৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ১.২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৯৭.৯১ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। সব মিলিয়ে বাজারে উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা আর সম্ভাবনার এক মিশ্র চিত্র তৈরি হয়েছে, যেখানে স্বর্ণ আবারও নিজের অবস্থান শক্ত করার লড়াইয়ে নেমেছে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!