যে ছেলেকে মৃত ভেবে দীর্ঘ দেড় বছর শোক পালন করেছে পরিবার, সেই ছেলে আসলে জীবিত এবং ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী। গাজার ২৫ বছর বয়সী যুবক ঈদ নায়েল আবু শারের এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি যেমন একটি পরিবারে আনন্দ ফিরিয়ে দিয়েছে, তেমনি হাজার হাজার নিখোঁজ ফিলিস্তিনির পরিবারের অন্তহীন যন্ত্রণাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পরিবারের জন্য খাবার ও কাজের সন্ধানে বের হয়ে নিখোঁজ হন ঈদ। এরপর থেকে তার বাবা নায়েল আবু শার প্রতিটি হাসপাতাল ও মর্গে ছেলের লাশ খুঁজেছেন।
কোথাও কোনো চিহ্ন না পেয়ে শেষ পর্যন্ত রেড ক্রস ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোও হাল ছেড়ে দেয়। নিরুপায় হয়ে পরিবারটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ঈদের ‘মৃত্যু সনদ’ সংগ্রহ করে এবং শোক পালনের জন্য তাঁবু খাটায়। দীর্ঘ ১৮ মাস পর সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া এক ব্যক্তি জানান যে, তিনি ঈদকে ইসরায়েলের ওফার কারাগারে দেখেছেন। পরে একজন আইনজীবীর ফোন কল নিশ্চিত করে যে, ঈদ মারা যাননি, বরং সেখানে বন্দী আছেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আবু শার পরিবার ও তাদের প্রতিবেশীদের মধ্যে খুশির জোয়ার বয়ে যায়। শোকের বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। ঈদের ফিরে আসা একটি আনন্দের খবর হলেও, ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। কারণ গাজায় বর্তমানে প্রায় ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
তাদের মধ্যে অন্তত ১,৫০০ জন ইসরায়েলি কারাগারে ‘গুম’ হয়ে আছেন বলে ধারণা করা হয়। পরিবারগুলো জানে না তাদের স্বজনরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন, নাকি কারাগারে নির্যাতিত হচ্ছেন।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, বন্দীদের তথ্য গোপন রাখা ইসরায়েলের একটি ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’। তথ্য না পাওয়ায় গাজার পরিবারগুলো এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটায়। এর ফলে সামাজিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়—যেমন কোনো স্ত্রী জানেন না তিনি বিধবা হয়েছেন কি না, কিংবা উত্তরাধিকারের বিষয়গুলো ঝুলে থাকে।
ঈদের মা মাহা আবু শার কখনোই বিশ্বাস করেননি যে তার ছেলে মারা গেছে। তিনি বলেন, ‘সবাই আমাকে জানাজা পড়তে বলেছিল, কিন্তু আমার মন বলেছিল ঈদ বেঁচে আছে। তবে আনন্দ পেলেও তার দুশ্চিন্তা কাটেনি।’ ছেলের ফেরার প্রতীক্ষায় থাকা এই মা বলেন, ‘এখন ভয় হচ্ছে সে কারাগারে কী অবস্থায় আছে। যতক্ষণ তাকে কোলে জড়িয়ে ধরতে পারছি না, ততক্ষণ শান্তি নেই।’
সূত্র : আল জাজিরা
বার্তা বাজার/এস এইচ






