খুলনা টাইগার্সের মালিক ইকবাল আল মাহমুদ ও আরও তিন জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ভ্রুণ হত্যা ও যৌতুক নির্যাতনের মামলা ২৫ লাখ টাকার আপসের মাধ্যমে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বুধবার (৪ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্যাহর আদালতে বাদীপক্ষ ও আসামিপক্ষের মধ্যে আপসনামা দাখিলের পর মামলাটি প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী মহিমা বাঁধন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আপসনামায় উল্লেখ করা হয়, বাদী ও আসামি ইকবালের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা পরবর্তীতে বিয়েতে পরিণত হয়। শারীরিক ও মানসিক টানাপোড়েন ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করা হলেও দুই পক্ষের আইনজীবী ও পরিবারের উপস্থিতিতে মীমাংসা হয়।
সমঝোতার অংশ হিসেবে ইকবাল আল মাহমুদ বাদীকে ২৫ লাখ টাকা ঢাকার একটি ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে প্রদান করেন। ৩ জুন বাদী টাকা গ্রহণ করেন। আপসনামায় আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা দায়ের করবে না।
গত ১ জুন খুলনা টাইগার্সের মালিক ইকবাল আল মাহমুদ ও তার প্রথম স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে গুলশান থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালতে তাদের জামিন মঞ্জুর হয় এবং আপসের জন্য সময় দেওয়া হয়। আপসের শর্ত পূরণের পর আজ আদালত মামলাটি প্রত্যাহার করে।
জামিনের পর সাংবাদিকদের কাছে ইকবাল আল মাহমুদ জানান, তিনি মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না এবং বাদীর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, ‘আমি ওই ব্যক্তিকে চিনি না, মামলায় যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা আমার জানা নেই।’
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী ২০১১ সালে প্রথম বিবাহ করেন, যা ২০২০ সালে শেষ হয়। এরপর ২০২১ সালে বাদী ও আসামির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয় এবং ২০২৩ সালে তারা কক্সবাজারের একটি হোটেলে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে বাদীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। আসামি বাধ্য করে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করেন এবং যৌতুক হিসেবে টাকা দাবি করেন। বাদী ১৮ লাখ টাকা যৌতুক দেয়ার পর জানতে পারেন আসামির প্রথম বিয়ে এখনও বৈধ রয়েছে।
পরবর্তীতে যৌতুকের আরও টাকা দাবি, হুমকি-ধমকি ও শারীরিক নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় বাদী মামলা করেন। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ইকবাল আল মাহমুদ ও অন্যান্য আসামিরা তাকে মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন এবং পরস্পরের ব্যক্তিগত ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশের হুমকি দেন।
মামলার প্রধান আসামি ইকবাল আল মাহমুদ ও তার স্ত্রী জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আপসের মাধ্যমে মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।






