ঢাকা   শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

টিকটকে সাবান বেচে মাকে হজে পাঠালেন ফিলিপাইনের তরুণী

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ১০:০৯ পিএম

টিকটকে সাবান বেচে মাকে হজে পাঠালেন ফিলিপাইনের তরুণী

ফিলিপাইনের তরুণ চিকিৎসক ড. ফাতিমা জাহরা দিত্তি মায়ের হজের স্বপ্ন পূরণে টিকটকে ৬ হাজারের বেশি সাবান বিক্রি করেছেন।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হিসেবে এই নারী চিকিৎসক অনলাইনে লাইভে এসে সাবান বিক্রির মাধ্যমে হজের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন।

দীর্ঘ কয়েক মাসের চেষ্টায় তিনি হজের খরচ জোগাড় করতে সক্ষম হন। গত ৪ মে তার ৬১ বছর বয়সী মা মিমবুং সৌদি আরবের উদ্দেশে হজ পালনের জন্য রওনা হন।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মায়ের হজের ইচ্ছা পূরণে এক বছরের মধ্যে অর্থের ব্যবস্থা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ড. ফাতিমা। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, এজন্য প্রতি মাসে ভালো পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করা প্রয়োজন, যা তার জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন।

একপর্যায়ে নিজের দুশ্চিন্তার কথা টিকটকের লাইভে শেয়ার করেন তিনি। আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নাও করেন। তখন এক অনুসারী তাকে টিকটকের লাইভ সেলিংয়ের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির পরামর্শ দেন।

এরপর থেকেই চিকিৎসকের চাকরির পাশাপাশি প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত টিকটকে লাইভে এসে সাবান বিক্রি শুরু করেন ফাতিমা। প্রতি সাবান বিক্রিতে তিনি ৫৭ পেসো বা প্রায় ৯৩ সেন্ট কমিশন পেতেন। কয়েক মাসে তিনি ৬ হাজারের বেশি সাবান বিক্রি করে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ পেসো সংগ্রহ করেন, যা তার মায়ের হজের ব্যয় মেটাতে যথেষ্ট ছিল।

‘ডক কুলোত’ নামে টিকটকে পরিচিত ফাতিমা শুরুতে নিজের চিকিৎসা বিদ্যার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেন। পরে পরিবারের সংগ্রাম, চিকিৎসক হিসেবে পথচলা এবং পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার গল্প তুলে ধরেন। এতে অনেক মানুষ তার জীবনের সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পান।

ফাতিমা জানান, ২০১৭ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে বড় হওয়ায় ছোটদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে তাকে।

তিনি বলেন, ‘মানুষ ভাবে ডাক্তার মানেই ধনী। কিন্তু আমাদের পরিবার শূন্য থেকে শুরু করেছে। আমি শুধু চেয়েছি, আমার মা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটাতে পারেন।’

গত বছরের মে মাসে সাবান বিক্রি শুরু করার পর নভেম্বরের মধ্যেই প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হন তিনি। পরে মায়ের হজ সফরের অন্যান্য খরচের জন্যও লাইভ সেলিং চালিয়ে যান।

মায়ের হজযাত্রা নিয়ে আবেগাপ্লুত ফাতিমা বলেন, ‘হজে যাওয়ার স্বপ্ন প্রতিটি মুসলমানের থাকে। মা কখনও ভাবেননি, সাবান বিক্রি একদিন তাকে হজে পৌঁছে দেবে। তিনি খুবই কৃতজ্ঞ ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি উপলব্ধি করেছি, নিয়ত ভালো হলে মানুষ আন্তরিকভাবেই পাশে দাঁড়ায়।’

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!