জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। শনিবার (১৬ মে) সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত রুকন সম্মেলনে বক্তব্যকালে এমনটা জানান তিনি।
জামায়াতের এই নায়েবে আমির বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের স্বপ্ন পূরণে জামায়াত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশে নতুন ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে ও আগামী দিনের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশপ্রেমিক জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করতে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ায় আবারও গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত সংসদ নির্বাচনে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জামায়াতকে ভোট দিয়েছে। কিন্তু দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে গণরায় পাল্টে দেয়া হয়েছে। জনগণ বর্তমান সংসদের বিরোধী দল ও আদর্শিক দল হিসেবে জামায়াতের নেতৃত্বের অপেক্ষার প্রহর গুনছে। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমাদের জনগণের পক্ষে কথা বলতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আপস চলবে না।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, সীমাহীন জুলুম-নির্যাতন, খুন-গুম ও শাহাদাতের বিনিময়ে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে জামায়াত আজকের অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। আদর্শিক মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দিয়ে ও কারাগারে নির্যাতন চালিয়ে শহিদ করা হয়েছে। আমি নিজেও ফাঁসির কাষ্ঠ থেকে আজকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে আপনাদের সামনে এসে দাঁড়াতে পেরেছি। এটিই আল্লাহর বিচার। কারণ, আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করি। দ্বীনের জন্য সবসময় জান ও মালের সঙ্গে জীবন উৎসর্গ করাই ইসলামী আন্দোলনের শিক্ষা।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীলদের আত্মশুদ্ধি, শৃঙ্খলা, ত্যাগ ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। নিয়মিত সাংগঠনিক চর্চা, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে গতি, উদ্যম ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে। আমাদের ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক জীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইসলামের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। তাহলে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ইসলামী আন্দোলনের পথ জুলুম, নিপীড়ন ও শাহাদাতের পথ। সর্বোচ্চ ত্যাগের শপথ নিয়েই আমরা ইসলামী আন্দোলনে শামিল হয়েছি। আজকের প্রধান অতিথি এ টি এম আজহার ভাই জীবন্ত শহিদ। আল্লাহ তাকে ফাঁসির সেল থেকে আবার ইসলামী আন্দোলনের ময়দানে ফিরিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং, আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। জামায়াতকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু দমিয়ে রাখা যায়নি। জামায়াতের সর্বস্তরের জনশক্তিকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। সামাজিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করতে হবে।
অন্যদের মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর জাতি একটি পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় গিয়ে আবারও ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। তারা জুলাই সনদকে উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার রক্তের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ ও বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের ময়দানের তৎপরতা বাড়াতে হবে।
এছাড়াও সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন, ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তোলা। অতীতে জুলুম-নিপীড়ন উপেক্ষা করে জামায়াত আর্তমানবতার কল্যাণে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
জামায়াতের সিলেট মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় নগরীর রিকাবীবাজারের এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে দারসুল কুরআন পেশ করেন মধ্যপ্রাচ্য জামায়াতের দায়িত্বশীল মাওলানা আব্দুস সোবহান আজাদ। এতে অন্যদের মধ্যে জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টিমের সদস্য হাফিজ আবদুল হাই হারুন ছাড়াও মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মাওলানা মিফতাহুদ্দীন আহমদ ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






