ঢাকা   রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

দেশের অর্ধেক লোককে বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধনী টিকবে না: জিএম কাদের

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ১০:১৫ পিএম

দেশের অর্ধেক লোককে বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধনী টিকবে না: জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের বলেছেন, ‘দেশের অর্ধেক লোককে বাদ দিয়ে আপনারা (সরকার) সংস্কার করবেন, আপনারা বিচার করবেন, নিজের স্টাইলে বিচার আর নির্বাচন করবেন, এটা কত দিন টিকবে জানি না। বাংলাদেশের ইতিহাসে সকলকে বাদ দিয়ে যে সংস্কার করা হয়েছে, সেটা কোনো দিন টিকে নাই। দেশের মানুষ, সকলকে মিলে যদি অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধনী) না করতে পারেন, সেই অ্যামেন্ডমেন্টও কখনোই টিকে থাকবে না।’

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক প্রকাশনা উৎসবে এসব কথা বলেন তিনি। এ দিন ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সোনার পাথরবাটি’ ও ‘মাইজেরিস অব ডেমোক্রেসি মিসকনসিভড্’ শিরোনামে লেখা জিএম কাদেরের দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রকাশনা সংস্থা ‘আকাশ’ এর আয়োজন করে।

২০১৪ সালের পর থেকে সবগুলো নির্বাচন ‘সাজানো’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জিএম কাদের। তিনি বলেন, ২০১৪ এর পর থেকে এখন পর্যন্ত যেগুলো নির্বাচন হয়েছে, সবগুলো সাজানো নির্বাচন হয়েছে। প্রিডিটারমাইন্ড ইলেকশন হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কটাক্ষ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে একটা অভিনন্দন জানানো উচিত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অত্যন্ত সুচতুরভাবে কারচুপি করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অত্যন্ত সুচতুরভাবে দেশি-বিদেশিদের বোকা বানিয়েছে, আমাদেরকে বোকা বানিয়েছে। এই ধরনের কারচুপির নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে কারও সময় হয় নাই।’

‘ভোটার’, ‘কেন্দ্র’, ‘ভোট দেওয়ার সময়’ ও ‘ভোট কাস্টিংয়ের গাণিতিক হিসাব’ উল্লেখ করে সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে জিএম কাদের বলেন, ‘এই ধরনের নির্বাচন কাকে জেতানো হবে, কাকে হারানো হবে, কাকে বের করে দেবে- সম্পূর্ণ পূর্ব নির্ধারিতভাবে তারা এটা করেছে। এই নির্বাচনে আপনারা যতটুকু দেখিয়েছেন, যতটুকু ভোট কাউন্টিং দেখেছেন, সেই ভোট কাউন্টিং ইম্পসিবল। এটা হয়নি, হতে পারে না।’

আওয়ামী লীগের ২০১৪ সাল থেকে ‘ওয়ান সাইডেড ইলেকশন’ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন রাষ্ট্রের মানুষের চিরদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্য থেকে মুক্তি। কিন্তু আমরা নিজস্ব দেশ পেলেও বৈষম্য থেকে মুক্তি পেলাম না। সংবিধানে গণতন্ত্র থাকলেও আসলে আমরা সেই গণতন্ত্র পাইনি। নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র পেয়েছে জনগণ।’

প্রধান আলোচকের বক্তব্য প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক, রাষ্ট্রচিন্তাবিদ ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, আমাদের গোটা ইতিহাসটাই বলে যে, বাঙালির রাজনৈতিক প্রতিভা, রাজনৈতিক মেধা এই জাতির মধ্যে পাওয়া যায় না। বিদেশিদের দ্বারা শাসিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতি সম্পর্কে আমাদের চিন্তা–চেতনা বিকশিত হোক। যারা রাজনীতি করেন, তারা কিছু লিখলে সেই লেখার গুরুত্ব অন্যদের লেখার তুলনায় সাধারণভাবে বেশি।

বর্তমান বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, ‘দেশে আমরা সব সময় ভেবেছি একটা শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা উচিত। একটা নির্বাচন হয়েছে, একটা সংসদ পেয়েছি। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে আমরা যে বিরোধী দল পেয়েছি এটাকে বিরোধী দল বলি না।’

মাসুদ কামাল তার মত তুলে ধরে বলেন, ‘বিরোধিতা মাঠে হচ্ছে, এগুলো লোক দেখানো। আমি মনে করি পারসোনালি নৈতিকভাবে এই দলগুলো আসলে একই।’

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের খুবই অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর একটা রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়ে আছে। আরেকটা রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আর আরেকটা রাজনৈতিক দল বিরোধী দলে আছে এবং তাদের এ-টিম, বি-টিম, সি-টিম সব আছে। আর কোনো রাজনৈতিক দল নাই। এই অবস্থায় বাংলাদেশে একটা বৃহত্তর রাজনৈতিক দল দরকার, যেটা বিরোধী ভূমিকায় যেতে পারবে। সেটা এখন খুব জরুরি।’

আওয়ামী লীগের বিরোধিতা জাতীয় পার্টি শক্তভাবে করতে পারলে দেশে জঙ্গিবাদের মুখে পড়তে হতো না বলে মন্তব্য করেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না। তিনি বলেন, ‘ডক্টর ইউনূস সরকারের সময় জঙ্গিবাদ, চরমপন্থা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল।’

প্রকাশক আলমগীর সিকদার লোটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন—জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ইকবাল হোসেন তাপস, সাংবাদিক কাজী রনক হোসেন প্রমুখ।

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!