ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের তিন ভাগের এক ভাগ অঞ্চল অর্থাৎ প্রায় ২৪ থেকে ২৬টি জেলা এবং ৭ কোটি মানুষ আজ মরুভূমির মতো চরম সংকটের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেন, এ সংকট থেকে দেশকে উদ্ধার করতে বর্তমান সরকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দিয়েছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ সমাপ্ত করার লক্ষে কাজ করছে।
শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জাতীয় নদী দিবস’ উপলক্ষে নোঙর ট্রাস্ট আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা ব্যারেজ ও মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের অধিকার। বিগত তিন মাস মন্ত্রণালয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, এই প্রকল্প নিয়ে যে প্রকৃত কাজ হওয়া দরকার ছিল, তা এখনো সমাপ্ত হয়নি। তাই আমাদের নতুনভাবে কাজ শুরু করতে হয়েছে।
তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের তিনটি সহযোগী সংস্থা—আইডব্লিউএম, সিইজিআইএস এবং ওয়ারপো গত তিন মাস ধরে তিস্তা অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা হবে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তিস্তা পাড়ের পাঁচ জেলার মানুষের উন্নয়নই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পদ্মা ব্যারেজের প্রাথমিক সমীক্ষা শুরু হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় এটি স্থবির থাকার পর বর্তমান সরকার নতুন করে এর যাত্রা শুরু করেছে। কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ দলের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
ভারতের সঙ্গে পানির হিস্যা ও গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী ১০ দিন পর পর পানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উজানে ও ভাটিতে পানির পরিমাপের ভারসাম্য বজায় রাখতে দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) ও কারিগরি দল নিয়মিত কাজ করছে। গত পরশু দিনও বাংলাদেশের একটি বিশেষজ্ঞ দল ভারতের কলকাতায় গিয়ে ফারাক্কা ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছে, যাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে মন্ত্রী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু একটি মহল এই আইনি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং সরকারকে চাপে ফেলতে প্রতিনিয়ত মব বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই সহযোগিতা হতে পারে না।
বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর দেশ পুনর্গঠনে মাত্র তিন মাস সময় পর্যাপ্ত নয়। এ সময়ে সরকারকে সহযোগিতা না করে বিভিন্ন অশালীন বক্তব্য ও অপপ্রচার চালানো জাতি প্রত্যাশা করে না।
তিনি মনে করিয়ে দেন যে, রাজনীতিতে শৃঙ্খলা ও শালীনতা থাকা জরুরি। কথায় কথায় রাস্তা ব্লক বা অগণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি আদায়ের সংস্কৃতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। যে কোনো ভুলত্রুটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব উল্লেখ করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এবং দেশের নদীগুলোকে বাঁচাতে মন্ত্রী সাংবাদিকসহ দেশের সচেতন সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






