ঢাকা   শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

অবাধে’ ঢুকছে ভারতীয় গরু, কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৯:৪২ এএম

অবাধে’ ঢুকছে ভারতীয় গরু, কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পশুর হাটে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় গরু ও মহিষ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পদ্মা নদী দিয়ে নৌকায় করে এসব পশু জেলার তত্তিপুর, রামচন্দ্রপুর ও সোনাচণ্ডী পশুর হাটে এনে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের দাবি, ভারতের সীমান্তবর্তী মহলদারপাড়া, নূরপুর, চানপুর ও বাহুড়া এলাকার মাঠ থেকে গরুগুলো প্রথমে নদীর ঘাটে জড়ো করা হয়। এরপর ডলার নামের এক মাঝির নৌকায় করে গরুগুলো পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশে আনা হয়। এ জন্য তিনি প্রতি জোড়া গরু বাবদ প্রায় ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন।

জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে ডলার মাঝি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আট বছর ভারত থেকে গরু এনে ব্যবসা করেছি। এখন দুই মাস ধরে আর করছি না। তবে সবাই আমার নাম ব্যবহার করে।’

ডলার মাঝি জানান, ভারত থেকে এক জোড়া গরু ১ থেকে ২ লাখ টাকায় কিনে এনে বাংলাদেশে ৪ থেকে ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। হাটে বৈধতার ‘ছাড়পত্র’ নিতে জোড়াপ্রতি আরও ৭ হাজার টাকা লাগে।

সরেজমিনে তত্তিপুর পশুর হাটে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থান থেকে আনা ভারতীয় গরু সারিবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে। দরদাম শেষে সেগুলো দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সীমান্ত থেকে গরু আনা-নেওয়ার কাজে নিয়মিত জড়িত রাখাল ও সহযোগীর মধ্যে রয়েছেন—কুতুব উদ্দিন, খাইরুল, নয়ন, মোমিন, তোতা, মোক্তার হোসেন, বাবু, উসা গনি, টুটুল, টেক্কা ও সাইদুল। কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা হলেন—আবু, ফটিক, সেলিম, বাবু ও আলমগীর।

এ ছাড়া সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মাহফুজ মেম্বার ওসব এলাকার চোরাকারবারিদের নিয়ন্ত্রণকারী। জানতে চাইলে মাহফুজ মেম্বার বলেন, ‘২০১৯-২০ সালের দিকে ভারত থেকে গরুর আনার ব্যবসা করতাম। এখন আর করি না।’

এদিকে ৫৩ ও ১৬ বিজিবির একাধিক বিজ্ঞপ্তির তথ্যে দেখা যায়, গত ২০ এপ্রিল থেকে ১৮ মে পর্যন্ত সময়ে অন্তত সাতটি বিওপি এলাকায় ভারতীয় গরু ও মহিষ পাচারের ঘটনা ধরা পড়েছে। এসব বিওপি হলো—বিভীষণ, জহুরপুর, হাকিমপুর, ফরিদপুর, মনাকষা, মাসুদপুর ও বাখের আলী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ভারতীয় গরু সীমান্ত পেরিয়ে পশুর হাটে বিক্রি হলেও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই বললেই চলে। এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান বলেন, প্রয়োজন হলে সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে গরু আমদানি করবে। কিন্তু সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার হলে সরকার রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি চোরাচালান সিন্ডিকেট শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, গত এক বছরে প্রায় ১৯ কোটি টাকার পাচারকৃত সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। গরু পাচার বন্ধে বিজিবি শতভাগ চেষ্টা করছে।

তত্তিপুর হাটে ভারতীয় গরু বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সীমান্ত থেকে ৮-১০ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত হাটে সরাসরি অভিযান পরিচালনা বিজিবির নিয়মের আওতায় পড়ে না। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গী বলেন, ‘ভারত থেকে গরু এসে এসব হাটে বিক্রি হচ্ছে—এমন তথ্য তিনি পেয়েছেন এবং বিষয়টি বিজিবিকে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘বিজিবি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাজিস্ট্রেট চায়, তাহলে জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন