ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশে ভূপাতিত একটি ইসরায়েলি গোয়েন্দা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, সীমান্তরক্ষী নৌ ইউনিট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে ড্রোনটির অংশবিশেষ শনাক্ত করা হয়। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজগানের উপকূলীয় এলাকায় ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত একটি চালকবিহীন বিমান ছিল।
ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, ড্রোনটি দেশটির আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল এবং পরে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ভূপাতিত করে। তবে কোন ধরনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কৌশলগত নিরাপত্তার কারণে এসব তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।
উদ্ধার করা ড্রোনটি রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম একটি উন্নত প্রযুক্তির মডেল ছিল বলে ইরানি সূত্রগুলো দাবি করেছে। তাদের মতে, হরমুজগান অঞ্চলে মোতায়েন করা দক্ষিণ-পূর্ব বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সেটিকে শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।
ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, পারস্য উপসাগর এবং সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলের আকাশসীমা এখন শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। ফলে যেকোনো অনুপ্রবেশ প্রচেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে।
তবে এসব দাবির বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সাধারণত প্রকাশ্যে নিশ্চিত বা অস্বীকার করা হয় না, বিশেষ করে গোয়েন্দা ও সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে।
বিশ্লেষকদের একাংশ বলছে, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ বা প্রক্সি সংঘাতের অংশ হতে পারে। ইরান ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি, সাইবার অভিযান এবং পরোক্ষ সামরিক কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ করে আসছে।
এর আগে বিভিন্ন সময় ইরান তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। একইভাবে ইসরায়েলও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা ও সামরিক অভিযান চালানোর অভিযোগ করে থাকে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই সরাসরি সামরিক উত্তেজনার ঘোষণা দেয়নি।
হরমুজগান প্রদেশ ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। কারণ এই অঞ্চল পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথে অবস্থিত, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে বিবেচিত। তথ্যসূত্র : তাসনিম নিউজ






