ওয়াশিংটনে আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন একটি শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে, এমন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার লেবাননের সরকারি গণমাধ্যম দেশটির দক্ষিণে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর জানিয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি সড়কে ড্রোন হামলার খবর দিয়েছে এবং জানিয়েছে, এর মধ্যে অন্তত একটি হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলে বিমান হামলার সাইরেন বেজেছে।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন চতুর্থ দফার আলোচনার পর একটি যৌথ বিবৃতি অনুসারে, বুধবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে, তবে এর জন্য ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে গোলাবর্ষণ ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’ করতে হবে।
আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও দুই পক্ষ ‘পাইলট জোন’ তৈরি করতেও সম্মত হয়েছে, যেখানে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী ‘সব ধরনের অরাষ্ট্রীয় পক্ষকে বাদ দিয়ে ভূখণ্ডের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নেবে’।
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির বৃহস্পতিবার এই চুক্তির সমালোচনা করে একে একটি ‘গুরুতর ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন।
ঘোষণার আগে বৃহস্পতিবার ভোরে হিজবুল্লাহ জানায়, তারা দক্ষিণ লেবাননের কানতারায় ইসরায়েলি সৈন্য ও যানবাহনের ওপর ‘এক ঝাঁক রকেট’ দিয়ে হামলা চালিয়েছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বোফোর্ট দুর্গের কাছে সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে গুলি ছোড়ে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল গত ১৭ এপ্রিল কিন্তু তা কখনও মানা হয়নি। উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অজুহাতে চলমান হামলাকে ন্যায্যতা দিয়ে আসছে।
লেবাননের ভাষ্যমতে, গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ লেবাননকে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে টেনে আনার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত সপ্তাহে জানায়, ১৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর থেকে লেবাননে ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। চলতি সপ্তাহে হিজবুল্লাহর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাহমুদ কোমাতি এএফপিকে বলেছেন, দলটি ‘আংশিক যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না’।






