বিদেশে অবস্থানরত ফটিকছড়ির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা হুসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন- ‘৮০-৯০ দশকে ফিরে যেতে বাধ্য করবেন না।’
ভিডিওটিকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়িতে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে কেউ স্বাভাবিক ভাবে নিচ্ছে না। ওই ভিডিওতে দেওয়া বক্তব্যকে উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
সোমবার (৮ জুন) বিকালে (আবু তৈয়ব) ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিও বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও বার্তায় আবু তৈয়ব বলেন, অতীতে আমরা ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি-জামায়াতসহ কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নির্যাতন বা অবিচারের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু বর্তমানে ফটিকছড়িতে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, মব সৃষ্টি করে নির্যাতন এবং গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে।
আবু তৈয়ব বলেন, ফটিকছড়ির মাটিতে আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। মব সৃষ্টি করে হামলা চালানো হচ্ছে এবং অনেককে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, আমাদের বাধ্য করবেন না আশি–নব্বই দশকে ফিরে যেতে। যদি সেই সময়ের পুনরাবৃত্তি ঘটানো হয়, তাহলে আমরাও কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হব।
প্রশাসনের উদ্দেশে আবু তৈয়ব বলেন, যদি আমাদের ছেলেদের বারবার গ্রেফতার করে জেলখানায় নেওয়া হয়, তাহলে আপনাদেরও আমরা ছেড়ে কথা বলব না। সরকারি নিয়ম মেনে কাজ করুন। আইনকে শ্রদ্ধা রেখে কাজ করার চেষ্টা করুন, যাতে আমাদের নীরব নেতাকর্মীরা হয়রানির শিকার যাতে হতে না হয়।
ভিডিও বার্তায় দেশে ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, দেশে এসে বক্তব্য দেওয়ার সময় হয়ে গেছে। আমরা দেশে ফিরব। বাংলাদেশের মাটিতে যখন আমরা পা রাখব, তখন অনেকের মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে না।
এ সময় তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আমাদের নেতাকর্মীদের গায়ে ফুলের টোকাও দেওয়া হয়, তাহলে ৮০-৯০ দশকের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। যারা এসব করবে তাদের ফটিকছড়ি ও চট্টগ্রামের মাটিতে থাকতে দেওয়া হবে না।
দুবাই থেকে ওই ভিডিও বার্তাটি দিয়েছেন আবু তৈয়ব; কিন্তু কবে দেওয়া হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সোমবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই ভিডিও বার্তা ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ভিডিও বার্তায় আবু তৈয়ব আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন হবে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই কোটি লোকের উপস্থিতি হবে। এজন্য নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি সবাইকে প্রস্তুত থাকারও আহ্বান জানান।
এদিকে ফটিকছড়িতে সোমবার বিকালে ফটিকছড়ি পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এসব বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার বলেন, তিনি (আবু তৈয়ব) যদি অতীতের মতো কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর চেষ্টা করেন, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে। ফটিকছড়ির বর্তমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টের সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।
উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার বলেন, তারা আগেও সন্ত্রাসের পথ বেঁচে নিয়েছে, সন্ত্রাসের জন্য মানুষকে উসকে দিচ্ছে, তাহলে তার (আবু তৈয়ব) এ বক্তব্যই প্রমাণ করে- তারা সন্ত্রাসী। ফটিকছড়িতে কোনো সন্ত্রাসের জায়গা হবে না।
উল্লেখ্য, এইচএম আবু তৈয়ব একসময় জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন। তিনি উত্তর জেলা ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে তিনি পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি দুবাই অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। দুবাই থেকেই তিনি দীর্ঘ নীরবতার পর সম্প্রতি ফেসবুকে সরব হয়েছেন।






