ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

অতিরিক্ত ফাউলের অভিনয় করলে বিশ্বকাপে দেখতে হবে হলুদ কার্ড!

Authorনিউজ রুম

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:০১ এএম

অতিরিক্ত ফাউলের অভিনয় করলে বিশ্বকাপে দেখতে হবে হলুদ কার্ড!

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই চোখের পলকে হারিয়ে যাওয়ার মতো গোল, গ্যালারি কাঁপানো উত্তেজনা আর মহাতারকাদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। তবে এই জমকালো মঞ্চের আড়ালে থাকে নিয়ম-শৃঙ্খলার এক কঠোর ও নিখুঁত বেড়াজাল।

মাঠ এবং মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে থাকে, যা বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে প্রতিটি ফুটবলারকে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হয়।

মাঠে ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে ফুটবলারদের প্রতিটি আচরণ থাকে রেফারিদের কড়া নজরদারিতে। আবেগের আতিশয্যে গোল উদযাপনের সময় জার্সি খুলে ফেলা, ইচ্ছাকৃতভাবে সময় অপচয় করা কিংবা গ্যালারির দর্শকদের দিকে কোনো উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গি করলে রেফারি পকেট থেকে হলুদ কার্ড বের করতে দ্বিধা করেন না। এমনকি ফাউল না হওয়া সত্ত্বেও ফাউলের নাটক করা কিংবা পেনাল্টি পাওয়ার লোভে বক্সে ডাইভ দিলে, তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং এর জন্য দেখতে হয় হলুদ কার্ড।

এখানেই শেষ নয়, মাঠের প্রধান পরিচালকের (রেফারি) সঙ্গে কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ, কটু কথা বলা কিংবা ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করলে সরাসরি লাল কার্ড কিংবা হলুদ কার্ডের শাস্তি পেতে হয়। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের আগে ভিন্ন দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখলে পরবর্তী ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়। আর সরাসরি লাল কার্ড দেখলে তো তৎক্ষণাৎ মাঠ ছাড়ার পাশাপাশি অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় পরবর্তী কয়েক ম্যাচের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়তে পারে।

ফুটবলারদের পোশাক ও ব্যবহৃত সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও ফিফার নিয়ম বেশ কড়া।

মাঠে ফুটবলারদের নিরাপত্তার স্বার্থে আংটি, গলার চেইন, হাতঘড়ি বা ব্রেসলেটের মতো অলঙ্কার পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে চোটজনিত কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শ থাকলে বিশেষ অনুমতি নিয়ে ফেস মাস্ক, ব্যান্ডেজ বা সুরক্ষামূলক গার্ড ব্যবহার করা যায়। এছাড়া জার্সির নিচে থাকা ভেতরের গেঞ্জিতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা ব্যক্তিগত স্লোগান বা বার্তা প্রদর্শন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

শুধু মাঠের ভেতরের সবুজ ঘাসেই নয়, মাঠের বাইরে টিম হোটেলেও ফুটবলারদের থাকতে হয় কড়া নজরদারিতে। বিশ্বকাপ চলাকালীন যেকোনো মুহূর্তে ফুটবলারদের ডোপ টেস্টের জন্য ডেকে পাঠানো হতে পারে।

এই পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানো কিংবা নমুনায় কারচুপির চেষ্টা করলে ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়তে পারে; হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা।
বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের স্বাধীনতা থাকলেও সেখানে বর্ণবাদী, আপত্তিকর বা রাজনৈতিক উসকানি ছড়ায়—এমন কোনো পোস্ট করা যাবে না। পাশাপাশি অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলন ও গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়াটা খেলোয়াড়দের জন্য বাধ্যতামূলক। যথাযথ কারণ ও অনুমতি ছাড়া এগুলো এড়িয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের জরিমানা।

এমনকি নিজেদের ক্যাম্প বা টিম হোটেল ছাড়ার ক্ষেত্রেও কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টের আনুষ্ঠানিক অনুমতির প্রয়োজন পড়ে। যাতায়াতের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করতে হয় ফিফা ও আয়োজকদের অনুমোদিত পরিবহন। মূলত বিশ্বকাপের মতো এত বড় একটি বৈশ্বিক আসরের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং ফেয়ার-প্লে নিশ্চিত করতেই এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন