‘তামিম ভাই রাতে একবারেই কল রিসিভ করেছে, এটা আমার জন্য খুব উপকার হয়েছে’
স্পোর্টস ডেস্ক : জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান বলেছেন, সিএনজি থেকে আমি নামছিলাম। পরে আমাকে সিএনজিতে উঠতে বলে। আমি মনে করছি, চলে যাওয়ার জন্যে উঠতে বলছে। আমি উঠার সাথে সাথে উনি আমাকে গলা চিপে ধরবে, এটা আমি জানতাম না। তখন আমি খুব ভয় পেয়ে গেছি।
শনিবার (১৩ জুন) নিজ বাসায় সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন ক্রিকেটার নাঈম হাসান।
তিনি বলেন, ‘কালকে রাতে যে ভাইয়াগুলো অনেকেই ছিল, একশ বা একশ বিশ জনের মতো হবে, ওদেরকে স্পেশালি ধন্যবাদ দিতে চাই। ওরা না থাকলে ঘটনাটা অন্যরকম হতে পারত। আমাকে যখন হ্যারেসমেন্ট করছে, নিয়ে যাচ্ছে, তখন আমি ওদেরকে বলছি, ভাইয়া, আপনারা আমার সাথে আসেন। ওরা আমার সাথে গেছে বিধায়, অন্য কিছু করার চেষ্টা থাকলেও পারেন নাই।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে যখন জোর করে সিএনজির ভিতর তুলতে চেয়েছে, তখন আমি অনেক ভয় পেয়ে গেছি। ওই জায়গায় ওই সময় যে ভাইয়ারা ছিল, তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ। কারণ রাত ১ টায় সাধারণ মানুষ থাকার চান্স খুব কম। ওরা আবার লালখান বাজার থেকে খুলশী থানায় গেছে খুব দ্রুত। ওই ঘটনাস্থলে যারা ছিল সবাইকে ‘থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ’।
‘আমি একটু এখন একা থাকতে চাই। আমি মেন্টালি ডিস্টার্ব। সারা রাত ঘুমায় নাই।’ বলেন নাঈম হাসান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করব। সরকার যেটা নিবে, আইনগতভাবে যেটা আসবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার কোনো মানুষের সাথে না হয়। এত পেঁচানো কোনো কিছু আমার ভালো লাগে না। আমি নরমাল জীবনযাপন করি। আমি যদি আজকে স্টেপ টা না নি, তাহলে কালকে সাধারণ মানুষের সাথে কী হবে কেউ জানবে না। আজকে যদি স্টেপ টা নি তাহলে দশটা মানুষের উপকার হবে।আমাদের দেশের জন্য ভালো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনার কাছে যে কোনো কিছুর নিউজ আসতেই পারে। একটা তো সঠিক পথ আছে।যখন আপনার একটা নিউজ আসছে, এ রকম আসছে, ধরে দাঁড় করাবেন, জিজ্ঞেস করবেন, ব্যাগ চেক করবেন। অবশ্যই চেক করার অধিকার আছে। উনি আমাকে বললে আমি চেক করতে দিতাম। সিএনজি থেকে আমি নামছিলাম। পরে আমাকে সিএনজিতে উঠতে বলে। আমি মনে করছি, চলে যাওয়ার জন্যে উঠতে বলছে। আমি উঠার সাথে সাথে উনি আমাকে গলা চিপে ধরবে, এটা আমি জানতাম না। তখন আমি খুব ভয় পেয়ে গেছি। ব্যাগ ও চেক করে নাই, কিছু করে নাই। ব্যাগগুলো নিয়ে আসছে থানায়। ওসিকে আমি পরিচয় দিয়েছি, উনি আমাকে বলছে, ‘চোখ নিচে নামায় কথা বল’। এটা বলার সাথে সাথে ওনার মোবাইলে একটা কল আসে। কল আসার পর যখন কথা হয়েছে, তখন উনি বলছে, ভাইয়া আপনি বসেন। তখন ওনার সুর পরিবর্তন। প্রথমে কিন্তু অন্য রকম ছিল।’
নাঈম হাসান বলেন, ‘ব্যাগগুলো ওইখানে ছিল। আমি আসার আগে প্রত্যেকটা জিনিস গ্লাভস, ব্যাগ, হেলমেটসহ সব কিছু বের করে দেখাইছি। যাতে বলতে না পারে, আমার ব্যাগ চেক করা হয় নাই। রাতে ডিসির সামনে করছি। ওনারা ভিডিও করছে। সিএনজিও চেক করছে। কিছু পায় নাই। ওনাদের খারাপ উদ্দেশ্য যদি না থাকত, উনি আমাকে বললেই ব্যাগ দেখতে দিতাম। এখন তো অনেক জায়গায় চেকিং করে। অনেকবার ধরছে। সবাইকে ধরে। উনি আমাকে ধরার আগে অন্য কিছু করার চিন্তা ভাবনা করছিল। যখন মোবাইল পেয়েছি, তখন তামিম ভাইকে ফোন দিয়েছি। তামিম ভাই রাতে একবারেই কল রিসিভ করেছে। এটা আমার জন্য খুব উপকার হয়েছে। উনি তারপর ওসির সাথে কথা বলছিল। ওসি মিথ্যা কথা বলছিল। আবার আমাকে চুপ, চুপ করছিল।’






