ঢাকা   শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

প্রত্যাশার বোঝায় নাকাল সরকার, অর্জন বেশিক্ষণ নয়”

Authorডেস্ক রিপোর্ট

আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৪৯ পিএম

প্রত্যাশার বোঝায় নাকাল সরকার, অর্জন বেশিক্ষণ নয়”

ছাত্র-জনতার তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতিত হয় এক ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই শাসকের পালিয়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ এবং ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হয়। বিচার ব্যবস্থা সংস্কার, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনসহ দেশের সংস্কারের প্রত্যাশায় শুরু হওয়া এই সরকারের প্রথম বছর পূর্তি উপলক্ষে শনিবার দৈনিক যুগান্তর কার্যালয়ে ‘সরকারের এক বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিবিদ ও বিভিন্ন পেশাজীবী অংশগ্রহণ করেন।

অনেকের মত, যেকোনো বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অন্য কোনো সরকারের তুলনায় অনেক বেশি হয়। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকেও এ প্রত্যাশা ছিল প্রচুর। কিন্তু এক বছর পার হওয়ার পরও সেই প্রত্যাশার তুলনায় অর্জন অনেকটাই সীমিত ও দুর্বল বলেই মত প্রকাশ করেন অনেকে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “অর্থনৈতিক দিক থেকে সরকারের কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়া যায়নি। বরং দেশের অর্থনীতি এখনো সংকটের মুখে রয়েছে।” তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন।

দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মিন্টু বলেন, “দেশে জনগণের মনের আদর্শ সরকার প্রয়োজন, যা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবে।”

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, গত এক বছরে সরকার সংস্কারে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও তা খুব বেশি করতে পারবে বলে মনে করেন না।

অন্যদিকে, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির ও অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। জাতিসংঘের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন গঠনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার বিচারের ভিত্তি তৈরিতে সরকারের অবদানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন হুমায়ুন কবির। আর আবু আহমেদ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উন্নতি, ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যস্ফীতি সামলানোয় সরকারের সফলতা উল্লেখ করেন। যদিও অর্থনীতিতে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, সেসব সাফল্যকে অস্বীকার করা যায় না বলে তিনি জানান।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, “বাকস্বাধীনতা এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমরা এখনও অনেক বিষয় বলতে চাই, কিন্তু বলতে পারি না।”

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা যোগ করেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পরেও সরকারের সমালোচনা করলে মিডিয়ায় ট্রায়াল এবং চাকরি হারানোর ঝুঁকি থেকে যায়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনো সঙ্কুচিত।”

গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূল ভিত্তি ফ্যাসিবাদের অবসান হলেও সেটি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী। তার মতে, “বিপ্লবের প্রথম শর্ত হলো ফ্যাসিবাদের সব চিহ্ন মুছে ফেলা, কিন্তু আমরা তা করতে পারিনি।”

এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সংস্কার না করলে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।”

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “গত এক বছরে দেশে বিনিয়োগ অপ্রতুল। ব্যবসায়িক পরিবেশ সন্তোষজনক নয় বলে বিনিয়োগকারীরা অনীহা প্রকাশ করছেন।”

গোলটেবিল আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, এবং সঞ্চালনা করেন প্রধান প্রতিবেদক মাসুদ করিম।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন