ঢাকা   রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

অন্তর্বর্তী সরকারের ৫৪ প্রকল্প অনিশ্চয়তায়

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৫, ১১:৩০ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের ৫৪ প্রকল্প অনিশ্চয়তায়

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদন পাওয়া ৫৪টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ও বিদেশি যৌথ বিনিয়োগে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, সফল হতে হলে প্রকল্পগুলোকে নিবিড় তদারকির আওতায় আনতে হবে।

তাদের দাবি, আগের সরকারের মতো দুর্বল পর্যবেক্ষণ, জমি-সংক্রান্ত জালিয়াতি কিংবা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই না করলে এই বিশাল পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

আর্থিক সক্ষমতার শর্ত

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অংশ নিতে হলে প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার থাকতে হবে অন্তত ৮.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল থাকতে হবে ৫৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এ ছাড়া প্রতি মেগাওয়াটের জন্য ৫ হাজার মার্কিন ডলার টেন্ডার সিকিউরিটি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় এসিল্যান্ড এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ছাড়পত্রও জমা দিতে হবে।

স্থগিত হওয়া আগের প্রকল্পগুলো

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আগের আওয়ামী লীগ সরকারের অনুমোদন পাওয়া ৩৭টি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প স্থগিত করে। এসব প্রকল্পের অধিকাংশেই বিদেশি বিনিয়োগ ছিল। নতুন দরপত্রে একাধিক প্রকল্পের অনুমোদন নিতে চাইলে প্রতিষ্ঠানগুলোর সামষ্টিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাইয়ের শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে দরপত্র জমা দিয়েছে এবং মূল্যায়ন কাজ শুরু হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারণ করা হবে কোন প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষম।

টেন্ডারের বর্তমান অবস্থা

২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ৫,২৩৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৫টি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে চার দফায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

  • দ্বিতীয় ধাপে ১০টি প্লান্টের জন্য ২১টি দরপত্র জমা পড়ে, যদিও বিপিডিবি ৪৬টি দরপত্রের নথি বিক্রি করেছিল।
  • প্রতিটি প্লান্টের ক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট, মোট ক্ষমতা ৫০০ মেগাওয়াট।
  • সবচেয়ে বেশি দরপত্র দিয়েছে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড (২৫টি প্রকল্পের জন্য)।
  • দেশ এনার্জি ৯টি, কনফিডেন্স ৭টি, বারাকা ৬টি এবং মীর গ্রুপ ৫টি প্রকল্পের জন্য দরপত্র জমা দিয়েছে।

জমি ও মুদ্রা নিয়ে চ্যালেঞ্জ

খাত-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদেশি বিনিয়োগ স্থগিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা কমেছে। তার ওপর নতুন শর্ত অনুযায়ী এসিল্যান্ডের সনদ বাধ্যতামূলক হওয়ায় জমি সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এছাড়া মুদ্রা বিনিময়ের ঝুঁকিও রয়েছে। দরপত্রের শর্তে বলা হয়েছে, অর্থের ৭০ শতাংশ মার্কিন ডলারে এবং ৩০ শতাংশ বাংলাদেশি টাকায় দেওয়া হবে। তবে স্থানীয় মুদ্রার অংশে মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় থাকবে না, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ মতামত

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (IEEFA) প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন—

“সরকারের সৌরবিদ্যুতের পরিকল্পনা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে অতীতে দেখা গেছে, অনেক কোম্পানি টেন্ডারে জয়ী হলেও জমি কিংবা আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এবার প্রতিটি প্রস্তাব কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে এবং আর্থিক সক্ষমতা ও জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য শর্তগুলো আরও সহায়ক হওয়া জরুরি।”

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সৌরবিদ্যুৎ খাতের এই প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। তবে স্বচ্ছতা, সঠিক যাচাই-বাছাই এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল এ উদ্যোগ সফল হতে পারে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন