যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন-এমনই দাবি করেছে দেশটির দ্য অবজারভার পত্রিকা। তবে সরকারের এক সূত্র এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, স্টারমার এখনো পুরোপুরি সরকার পরিচালনার কাজে মনোযোগী আছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলে অসন্তোষ বাড়ছিল। সম্প্রতি তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম পার্লামেন্টে একটি আসন জয়ের পর নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের সুযোগ তৈরি হওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে।
দ্য অবজারভারের দাবি, স্টারমার তার চেকার্সের গ্রামীণ বাসভবনে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পদত্যাগ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছেন। দলীয় শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতাই সোমবার তার ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য আসতে পারে বলে ধারণা করছেন। তবে সরকারের সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী আগের মতোই দায়িত্ব পালনে মনোযোগী এবং পদত্যাগের কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি আগেও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেলেও পরে একাধিক রাজনৈতিক বিতর্ক ও নীতিগত পরিবর্তনের কারণে স্টারমারের জনপ্রিয়তা কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, অ্যান্ডি বার্নহামকে সম্ভাব্য পরবর্তী নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি সম্প্রতি একটি উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। যদিও তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেননি, তার ঘনিষ্ঠরা স্টারমারকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করতে প্রস্তুত বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়লে যুক্তরাজ্যে গত এক দশকে সবচেয়ে বেশি প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের ধারা আরও তীব্র হতে পারে।






