কীভাবে একাদশে ভর্তি, পরীক্ষা নাকি ফলাফলে ?
এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সপ্তাহখানেক আগে শেষ হয়েছে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এরই মধ্যে কলেজের একাদশ ও মাদরাসার আলিমে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ভর্তিতে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হওয়ায় একাদশ শ্রেণির ভর্তি কীভাবে হবে এ নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তারা।
গত ২১ এপ্রিল দেশব্যাপী একযোগে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে ২০ মে শেষ হয়। ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত চলে ব্যবহারিক পরীক্ষা।
এ বছর মাদরাসা ও কারিগরিসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়।
ইতিমধ্যে আগামী ২০ জুলাই এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এদিকে, গত ১৬ মার্চ সরকার এক পরিপত্রে মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। ওই দিন সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের ভর্তিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিকের ভর্তিতেও লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কোন পদ্ধতিতে হবে একাদশ শ্রেণির ভর্তি?
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২১ জুন) এ সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই সভায় সবদিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, সকল বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকরা নীতিমালা নির্ধারণে একটি সভা করবেন। সভা শেষে খসড়া নীতিমালা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিবে, তাই বাস্তবায়ন করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, আগের নিয়ম অনুযায়ী এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হতে পারে।
প্রতিবছর ভর্তির আগে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা প্রণয়ন করে থাকে সরকার। সর্বশেষ ২০২৫ সালের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালায় কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
ওই নীতিমালা অনুযায়ী, কেবল শিক্ষার্থীর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। এ ছাড়া ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। বাকি ৭ শতাংশের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে নিজেদের স্বতন্ত্র ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসছে সনামধন্য কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লিখিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—নটর ডেম কলেজ, হলি ক্রস কলেজ, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল এবং সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ। মেধার ভিত্তিতে কলেজগুলোতে আবেদন প্রক্রিয়া যেমন আলাদা, তেমনি লিখিত পরীক্ষা নেওয়া এই চার কলেজের নিয়ম-কানুনও বিশেষভাবে অনুসরণযোগ্য।






