কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন ওটি এটেন্ডেন্ট সরকারী স্টাফ কোয়ার্টারে খুলে বসেছেন অস্ত্রোপচার কেন্দ্র। হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা রোগীদের কৌশলে চুক্তি করে নিয়েযান নিজের কোয়ার্টারে। কাটা-ছেড়া, জোড়া লাগানো থেকে শুরু করে সার্জারীর এমন কোন কাজ নেই যা তিনি করেন না। কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় এ যেনো হাসপাতালের ভেতরে বিশেষায়িত আরেক হাসপাতাল।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, মোহাম্মদ এরফান একজন সাধারণ ওটি এটেন্ডেন্ট হিসেবে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন ২০১৮ সালের দিকে। তার কাজ ওয়ার্ড বয়ের মতো অস্ত্রোপচার কক্ষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ও অস্ত্রোপচার কালীন চিকিৎসকদের বাহ্যিক সহযোগীতা করা। হাসপাতালে যোগদানের কয়েক বছরের মাথায় তার আবাসনের জন্য বরাদ্দ হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারের (এ-১) কক্ষে বাচ্চাদের খতনা করা শুরু করেন।
অনুসন্ধানে আরো জানাযায়, বিভিন্ন ঘটনায় আহত রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে আহতের ধরণ দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার রেফার্ড করা হয়। রোগীর ধরণ বুঝে কৌশলে রোগীর অবিভাবকদের ফুসলিয়ে গোপনে নিজের শয়ন কক্ষে নিয়ে গিয়ে কাটা-ছেড়া সেলাইয়ের কাজ করেন। এসব অপকর্ম জানাজানি হওয়ার পর ২০২৪ সালে তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ প্রণয় রুদ্র তাকে সেন্টিমার্টিন বদলি করেন। সেখান থেকে ৪ মাস পর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বদলি হয়ে ফের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপকেক্সে ফিরে আসেন। ফিরে এসে আবারও একই অপকর্ম শুরু করেন।
তার ফাঁদে পা দিয়ে অপচিকিৎসার শিকার শাহপরীর দ্বীপ ডেইল পাড়ার নুর হোসেন জানান, খেলতে গিয়ে আঘাত প্রাপ্ত ১৩ বছর বয়সী নাতিকে নিয়ে তিনি টেকনাফ হাসপাতালে যান। চিকিৎসক রোগীকে কক্সবাজার নেওয়ার পরামর্শ দেন। চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর কক্সবাজার গেলে খরচ বেশী হবে বলে ফুঁসলিয়ে এরফান স্টাফ কোয়ার্টারের কক্ষে নিয়ে পায়ে সেলাই করে বেন্ডেজ লাগিয়ে ৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। পরে ইনফেকশন হয়ে কক্সবাজার নিয়ে চিকিৎসা করতে হয়েছে।
মোচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সবুরা জানান, এরফান স্যার খুব ভালো মানুষ। তিনি খুব ভালো ভাবে খতনা করেন। আমাদের ক্যাম্পে তার খুব সুনাম রয়েছে। যে কোন কাটা ছেড়া নিয়ে তার কাছে গেলে কিছু টাকা দিলেই সেলাই করে সুন্দর ভাবে বেন্ডেজ করে দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের জনৈক ব্যক্তি জানান, চলাফেরা করতে অক্ষম বিভিন্ন কাটা ছেড়ার ঘটনা হাসপাতালে না নিয়ে কন্ট্রাকের মাধ্যমে এরফান হোম সার্ভিস দিয়ে থাকেন।
প্রতিবেদক এরফানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ছদ্মবেশে তার তার সাথে কথা বলেন। এক পর্যায়ে তিনি প্রতিবেদককে বাসায় গিয়ে খতনা করার কথা স্বীকার করেন। অন্য প্রশ্ন করার আগেই বুঝতে পেরে তিনি ফোনের লাইন কেটেদেন।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, যেখান ক্লিনিকে খতনা করে শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। অস্ত্রোপচার করে ইনফেকশন হচ্ছে, সেখানে স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্টানের অনুমতি বিহীন দেখা দেখিতে শিখে অনিরাপদ জায়গায় খতনা ও সার্জারির মতো ঝুকিপূর্ণ একটি কাজ অবলিলায় চালিয়ে যাওয়া মানব দেহের জন্য কতটুকু নিরাপদ?
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ সুনম বড়ুয়া বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, চিকিৎসা নিয়ে নয়ছয় করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ সাবের বলেন, বিষটি খুবই দুঃখ জনক। বিষয়টি খোঁজ নিতে তিনি টেকনাফ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুনম বড়ুয়াকে নির্দেশ দেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমানিত হলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের প্রভাবশালী কয়েকজন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই তিনি এমন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।






