যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের নতুন অধ্যায়ের মধ্যেই পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের পর চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো সফরে গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সরকারি সফরে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল থাকবে। সফরকালে তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এছাড়া সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সফররত ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবার (২২ জুন) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি হবে ড. মাসুদ পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর। সফরে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করবে এবং বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত নিরাপত্তা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের নতুন পথ খুঁজবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সফরকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা এবং উভয় দেশের আগ্রহের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আসন্ন এই সফর পাকিস্তান ও ইরানের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও টেকসই অগ্রগতির প্রতি দুই দেশের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
মূলত প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘লেক লুসার্ন সামিট’ নামে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা মাত্র একদিন আগেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৮ জুন সই হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় ওই আলোচনার মাধ্যমে নতুন দফার এই আলোচনা শুরু হয়।
১৪ দফা সমঝোতার আওতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান চলমান যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ৬০ দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেয়ার একটি কাঠামো গঠনে সম্মত হয়েছে।
মূলত সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপে মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান ও কাতার। পাকিস্তানের পক্ষে সেখানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
লেক লুসার্ন সামিটে ভবিষ্যৎ কারিগরি আলোচনা এগিয়ে নেয়ার একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি লেবাননে সংঘাত বন্ধ রাখা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার জন্য যোগাযোগের পৃথক ব্যবস্থাও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
মধ্যস্থতাকারীরা যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে একটি যোগাযোগ চ্যানেল চালুর বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।
এছাড়া নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও লেবাননের কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনের বিষয়েও সম্মতি হয়েছে।






