সুইজারল্যান্ডে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হওয়ার পরপরই ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে গত বছর মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া তাদের প্রধান পরমাণু কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করতে পারবে না জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ)।
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দেওয়া এই যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বড় বিষয়গুলো স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
এই চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে; যার অংশ হিসেবে ইরানের শীর্ষ নেতা মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানে সফরে যাচ্ছেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। একই সময়ে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি আলোচনারও প্রস্তুতি চলছে।
তবে এই জোরালো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। জেডি ভ্যান্স দাবি করেছিলেন, গত বছরের ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু সাইটগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের পুনরায় আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হয়েছে ইরান। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করে বলেন, আইএইএ-এর মহাপরিচালকের সাথে তাদের এই বিষয়ে কোনো বৈঠক হয়নি।
একই সাথে মার্কিন ও ইহুদিবাদী সামরিক আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অনুমতি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাও তেহরানের নেই বলে তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।





