নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় মেডিনোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চরম অবহেলা ও অদক্ষতায় সিজারিয়ান অপারেশনের পর মোছা. তুলী বেগম (২৯) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
নিহত তুলী বেগম টেপাখরিবাড়ী ইউনিয়নের এমদাদুল হকের স্ত্রী। পরিবারের অভিযোগ, সিজারের একদিন পর থেকেই তুলীর পেট ফুলে যেতে শুরু করে এবং অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বারবার জানালেও তারা বিষয়টিকে ‘স্বাভাবিক’ বলে উড়িয়ে দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে প্রসূতির জীবন রক্ষার সুযোগ হারিয়ে যায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন মেডিনোভা ক্লিনিকে তুলীর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। প্রথম দিন শিশু ও মা উভয়ের অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে জানানো হয়। কিন্তু পরদিন থেকেই তুলীর পেট ফুলে যায় এবং ক্রমাগত অবনতি ঘটতে থাকে। পরিবারের সদস্যরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানালেও তারা বলেন, “চিন্তার কিছু নেই, সিজারের পর এমন হয়, চিকিৎসা চলছে, সুস্থ হয়ে যাবে।”
অবশেষে ২৫ জুন বৃহস্পতিবার প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে পরিবার ক্লিনিকের অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোর করে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তিনি মারা যান।
নিহতের স্বামী এমদাদুল হক বলেন, “সিজারের পর আমার স্ত্রী ও সন্তান দুজনই সুস্থ ছিল। কিন্তু একদিন পর থেকে তার অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। ক্লিনিকে বললেই তারা বলতো ভালো আছে। শেষ পর্যন্ত রংপুরে নিয়ে গেলাম, কিন্তু বাঁচানো গেল না।”
এ ঘটনায় মেডিনোভা ক্লিনিকের মালিক ও ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, “আপনার মাধ্যমে ঘটনাটি জানলাম। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, এ ধরনের ক্লিনিকগুলোতে অদক্ষ চিকিৎসক ও অপর্যাপ্ত সুবিধা নিয়ে অপারেশন চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। নইলে এ ধরনের অবহেলাজনিত মৃত্যুর ঘটনা বন্ধ হবে না।
বার্তা বাজার/এস এইচ






