জুলাই আন্দোলনের প্রায় দুই বছর পরেও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ পাননি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলামা। আজ বুধবার রাজধানীর রায়ের বাজারে জুলাইয়ের শহীদদের গণকবর জিয়ারত শেষে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের এ কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর হয়েছে। আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বলেছিলাম, জুলাই গণহত্যার বিচার ও সংস্কারের মাধ্যমে আমরা একটা বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ করতে চাই। সেই বাংলাদেশ, আমাদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ, আমরা এখনো পাইনি।’
হাসানুল হক ইনুর রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, ‘আপনারা জানেন, গতকালকে ট্রাইব্যুনালের একটি বিচারের রায় এসেছে, কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই রায় বাংলাদেশের জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি এবং আমরা মনে করি সেই রায়ের মাধ্যমে আমরা যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলাম, যারা শহীদ পরিবার, যারা আহত যোদ্ধা রয়েছে, তারা কোনো ন্যায়বিচার পায়নি।’
নাহিদ বলেন, ‘হাসানুল হক ইনু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষভাবে গণহত্যায় মদদ যুগিয়েছিলেন। গণহত্যার যে সিদ্ধান্ত ছিল, শেখ হাসিনা যিনি প্রধান সিদ্ধান্তকারী ছিলেন, তাঁকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেছেন। ফলে আমরা মনে করি…এটা যথেষ্ট নয়। আমাদের আবেদন থাকবে রাষ্ট্রপক্ষ যাতে এটা আপিল করে এবং আমরা তার কঠোর থেকে কঠোরতর বিচার প্রত্যাশা করছি।’
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে দেশে এনে দ্রুত সাজা কার্যকরের দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব যে শেখ হাসিনাকেসহ জুলাই গণহত্যাকারী এবং ওসমান হাদির হত্যাকারী যারা ভারতে পালিয়ে রয়েছে, তাদের দেশে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।’
নাহিদ বলেন, ‘আমরা দেখলাম এই নির্বাচনের যে গণভোট এবং নির্বাচনের অন্যতম কমিটমেন্ট ছিল কাঠামোগত সংস্কার, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। আমরা এই সংস্কার এখনো পাইনি। ফলে এবারের জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদ্যাপন, সেটার বার্ষিকী পালনের আমাদের অন্যতম মটো হচ্ছে গণহত্যার বিচার এবং সংস্কার বাস্তবায়ন।’
নাম সর্বস্ব জুলাই উদ্যাপন না করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, শুধু নামকাওয়াস্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পালন করলে হবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা—সংস্কার বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে আছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাথে আছে।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতীয় জাদুঘর যেটা, সে জাদুঘর খুলে দেওয়া হচ্ছে না। ৫ই আগস্টের মধ্যে জুলাই জাতীয় জাদুঘর খুলে দিতে হবে, না হলে জনগণ নিজেরাই সেই জাদুঘর কিন্তু খুলে নিবে এবং নিজেরাই সেই জাদুঘরে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে।’
নাহিদ ইসলাম জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, শ্রমিক, নারী, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক কর্মী, আলেম, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রবাসী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীসহ আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতাকারী সবাইকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
এ দিন জুলাই শহিদদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি শুরু করে এনসিপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের শীর্ষ নেতারা।
বার্তা বাজার/এস এইচ






