বার্তা বাজারসহ একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার আগে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নের অংশ ফাঁসের অভিযোগে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মহাদেব চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তার কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি. এম. রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটি গঠনের আদেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন যে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মহাদেব চন্দ্র রায় দশম শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের ২ নম্বর প্রশ্ন তার প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের WhatsApp এর মাধ্যমে সরবরাহ করেন, যা পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের ২ নম্বর প্রশ্নের সঙ্গে মিলে যায়। বিষয়টির সঠিক ও সত্যনিষ্ঠ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সিনিয়র শিক্ষক মো. জসিম প্রামাণিককে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিনিয়র শিক্ষক মো. তনবিরুজ্জামান এবং সহকারী শিক্ষক স্বপন চন্দ্র রায়।
এদিকে, একই তারিখে জারি করা পৃথক এক অফিস আদেশে সহকারী শিক্ষক মহাদেব চন্দ্র রায়কে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, পরীক্ষার আগে প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের WhatsApp এর মাধ্যমে প্রশ্ন সরবরাহের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই বার্তা বাজারসহ একাধিক গণমাধ্যমে “পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীর হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নের অংশ পাঠানোর অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে, প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিল” শিরোনামে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে পরিচালিত “Private” নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দশম শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের ২ নম্বর প্রশ্ন পাঠানো হয়। পরে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গেলে গ্রুপে পাঠানো প্রশ্নটি মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। সংবাদ প্রকাশের পরই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন এবং কৈফিয়ত তলব করে।
বার্তা বাজার/এস এইচ






