রহস্যময় শিল্পী হবেকির সুবোধ সিরিজের সর্বশেষ কাজ কি এবার দেখা গেল ভারতের সিকিমে?
‘হকার অব সুবোধ’ পরিচয়ধারী ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হবেকি আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একটি ছবি পোস্ট করেছে।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে গ্যাংটক-রংপো সড়কের মাজিতার নালা সেতুর দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের দেয়ালে আঁকা একটি গ্রাফিতি। ক্যাপশনে লেখা, ‘রংপো, সিকিম, ভারত।’
আর্টকনের তথ্য অনুযায়ী, কংক্রিটের দেয়ালে স্টেনসিল ও স্প্রে পেইন্টে আঁকা গ্রাফিতিটির আকার প্রায় ২০ ফুট বাই ১২ ফুট। ডান পাশে রয়েছে ‘HOBEKI?’ নামচিহ্ন।
বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, গত ৩০ জুন প্রথম এটি দেয়ালে দেখা যায়।
বহু বছর ধরে সুবোধ বাংলাদেশের সমকালীন স্ট্রিট আর্টের অন্যতম পরিচিত প্রতীক। আগে তাকে প্রায়ই দেখা যেত ভয়, তাড়না কিংবা ভাঙনের মধ্যে ছুটে চলা এক চরিত্র হিসেবে। কিন্তু সীমান্তের ওপারের এই সুবোধ শরণার্থী নয়, এসেছে প্রতীকী পথিকের বেশে।
সময়ের প্রেক্ষাপট এই শিল্পকর্মকে গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য দিয়েছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা পুনরায় চালু করে ভারত।
বাংলাদেশের পাঁচটি ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণও শুরু হয়েছে। আর তার মাত্র দুই দিন পরই ভারতের মাটিতে দেখা গেল সুবোধকে। যেন পর্যটক ভিসা চালুর পর ভারতে আসা বাংলাদেশের প্রথম প্রতীকী পর্যটক সে-ই।
রংপো সিকিমের প্রবেশদ্বার হিসেবে সুপরিচিত। পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের কাছে তিস্তা-রংপো নদীপথের করিডর বরাবর অবস্থিত এই জায়গা গ্যাংটকে যাওয়ার পথে সিকিমে প্রবেশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। যাতায়াত, আগমন, কাগজপত্র যাচাই, অনুমতি, সবই এখানকার দৈনন্দিন বাস্তবতা।
শিল্পকর্মটিতে সুবোধকে দেখা যায় একেবারেই ভিন্ন ভঙ্গিতে। খালি গায়ে, এলোমেলো চুল আর ছেঁড়া জিন্স পরে সে শুয়ে আছে একটি দোলনায়। তবে দোলনাটি বাঁধা কাঁটাতারের সঙ্গে। ডান হাতে সে ধরে আছে একটি তার কাটার যন্ত্র। বাম হাত ঝুলে আছে নিচে, মাটিতে রাখা একটি পানিভর্তি বালতির দিকে।
প্রথম দেখায় দৃশ্যটি শান্ত মনে হয়, যেন দীর্ঘ ভ্রমণের পর বিশ্রাম নিচ্ছে কোনো পথিক। কিন্তু প্রতিটি উপাদান সেই প্রশান্তিকে নিঃশব্দে জটিল করে তোলে। দোলনা সাধারণত অবসর, বিশ্রাম আর চলাচলের স্বাধীনতার প্রতীক। আর কাঁটাতার মানে বিভাজন, বিপদ আর সীমিত যাতায়াত।
এই দুই প্রতীককে একসঙ্গে রেখে হবেকি তুলে ধরেছেন দক্ষিণ এশিয়ার ভ্রমণ বাস্তবতার এক মৌলিক দ্বন্দ্ব, চলাচলের স্বপ্ন আর সীমান্তের কঠোর বাস্তবতার মাঝের টানাপোড়েন।






