পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টা থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন দিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। নিহত ওই কর্মকর্তার নাম গ্রুপ ক্যাপ্টেন আসিম তারিক, যিনি বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন।
রবিবার (৫ জুলাই) ইসলামাবাদে বিমানবাহিনীর সদর দপ্তর এবং এয়ার ইউনিভার্সিটির কাছে ‘শাহীন চক’ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পাকিস্তান বিমানবাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের তথ্য মতে, ঘটনার সময় গ্রুপ ক্যাপ্টেন আসিম তারিক শাহীন চক এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি দেখতে পান, এক নারী মোটরসাইকেল আরোহী এক ব্যক্তির সঙ্গে তীব্র তর্ক করছেন এবং ওই নারী অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। নারীটিকে বিপদে পড়তে দেখে আসিম তারিক অবিলম্বে এগিয়ে যান এবং মোটরসাইকেল আরোহীকে বাধা দেন।
একপর্যায়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তারিকের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে মোটরসাইকেল আরোহী ওই ব্যক্তি আচমকা একটি হ্যান্ডগান (পিস্তল) বের করে তারিকের ওপর সরাসরি গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন এই কর্মকর্তা এবং ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তাকর্মীরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারী ব্যক্তি তার মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে ভুক্তভোগী ওই নারীর জবানবন্দি রেকর্ড করে। তদন্তে জানা যায়, হামলাকারী ব্যক্তি ওই নারীর অপরিচিত কেউ ছিল না, বরং তার অফিসেরই একজন সহকর্মী। ওই নারী পুলিশকে জানান, কাজ শেষে বাড়ি ফেরার জন্য সহকর্মীর মোটরসাইকেলে লিফট নেওয়ার প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পর ওই সহকর্মী তার অনুমতি ছাড়াই পরিকল্পিত রাস্তা পরিবর্তন করে একটি নির্জন এলাকার দিকে (শাহীন চকের দিকে) যেতে শুরু করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই নারী মোটরসাইকেল থেকে নামার চেষ্টা করেন এবং তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা আসলে একটি অপহরণের চেষ্টা ছিল।
হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ওই হামলাকারীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি এবং তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়েও তাৎক্ষণিক কোনো ঘোষণা দেয়নি।
বার্তা বাজার/এস এইচ






