ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

টানা বর্ষণে পানির নিচে চট্টগ্রাম, চসিক মেয়র বলছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মনিটরিংয়ের কারণে জলাবদ্ধতা হয়নি’

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম

টানা বর্ষণে পানির নিচে চট্টগ্রাম, চসিক মেয়র বলছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মনিটরিংয়ের কারণে জলাবদ্ধতা হয়নি’

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরী। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে রেকর্ড ৩৩০ দশমিক ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে এই অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, এই বৃষ্টি আরও পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

জলাবদ্ধতার কারণে বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। গণপরিবহন সংকট এবং তীব্র যানজটের কারণে অফিসযাত্রী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে, যা নাগরিক জীবনকে স্থবির করে তুলেছে।

শহরের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, ওয়াসা মোড়, হালিশহর, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও, বাকলিয়া ও চকবাজার। এর ওপর জোয়ারের পানি হালিশহর, আগ্রাবাদ, কাট্টলী, বন্দরটিলা, গোসাইডাঙ্গা, সল্টগোলা ক্রসিং, চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, পতেঙ্গা ও বন্দর এলাকায় ঢুকে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা জাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই বাসার নিচতলা ও রাস্তায় পানি জমে যায়। এটা নতুন কিছু নয়।’

বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা চাকরিজীবী হেফাজুতুল ইসলাম বলেন, ‘হাঁটু পানিতে বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার সময় রিকশা পাওয়া দুষ্কর, আর পেলেও দ্বিগুণ ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া যেন এখন ভাগ্যের ব্যাপার।’

বহির্নোঙরে পণ্য খালাস স্থগিত, বিমান ডাইভার্ট

ভারী বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে (আউটার অ্যাঙ্করেজ) বড় আকারের জাহাজের পণ্য ওঠানামা ব্যাহত হলেও জেটিতে কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। বন্দর কর্মকর্তারা জানান, সাগর উত্তাল থাকায় গত মঙ্গলবার বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) সচিব রেফায়েত হামিম বলেন, ‘বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি রয়েছে। সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকায় বহির্নোঙরে থাকা ৪৩টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কাজ পুরোপুরি স্থগিত রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। সতর্ক সংকেত ৩ নম্বরের নিচে নেমে এলে বন্দরের কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে।’ তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ভারী বৃষ্টি সত্ত্বেও বন্দরের ভেতরের টার্মিনালগুলোতে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পেরে অভ্যন্তরীণ রুটের দুটি ফ্লাইট ঢাকায় ডাইভার্ট (ঘুরিয়ে দেওয়া) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ।

পাহাড়ধসের শঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ

টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢাল থেকে ইতিমধ্যে ৩০টি পরিবারকে সরিয়ে নিয়েছি এবং আরও মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের খাবার সরবরাহ করেছি এবং যেকোনো ধরনের প্রাণহানি এড়াতে মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় নগরীর ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী প্রায় ৬ হাজার ৫৫৫ জন মানুষকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চসিকের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

এদিকে, সোমবার চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ও প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে যান চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন। সেখানে তিনি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের বাস্তব চিত্র, খাল-নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে মেয়র শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মনিটরিংয়ের কারণে দুই দিনের টানা বৃষ্টিতেও চট্টগ্রাম মহানগরীতে জলাবদ্ধতা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনের বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে মনিটরিং করছেন। তিনি চট্টগ্রামের সবগুলো সেবা সংস্থাকে নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করার জন্য একটি শক্তিশালী কমিটি করে দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কারণেই টানা দুই দিনের বৃষ্টির পরও নগরীতে কোনো উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি।’

একই দিন চসিকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও মেয়রের এই দাবির স্বপক্ষে পোস্ট দেওয়া হয়। তবে পোস্টে চসিকের এই দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোনো মিল না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন নেটিজেনরা।

মো. কামরুল হাসান বাপ্পা নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী চসিকের পোস্টে মন্তব্য করেন, ‘৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম নিমতলা, দুইতলা মসজিদ ও আব্দুল লতিফ রোডের খালটা একটু ভিজিট করে যাওয়ার নিমন্ত্রণ রইল।’

মোহাম্মদ রাফি নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘খালের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় কাজীরহাট ও কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় পানি উঠেছে। এখনও পানির মধ্যে বসে এই মন্তব্য করছি। দয়া করে খালের কাজ দ্রুত শেষ করুন।’

নগরবাসীর অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় চট্টগ্রামের অনেক এলাকা আগের মতোই পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে প্রতি বর্ষায় একই ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন