সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও বিতর্কের জেরে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর তার নির্বাচনি এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বহিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শ্যামনগরের বিভিন্ন স্থানে উৎসুক জনতা ও নেতাকর্মীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর শ্যামনগর সদরে স্থানীয় লোকজনকে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়। একই সঙ্গে অনেকেই মনে করছেন, কেবল বহিষ্কার নয়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বহিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা জামায়াতের কার্যালয় ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা চাপা উদ্বেগ ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এক প্রতিক্রিয়ায় শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির বলেন, নৈতিকতার প্রশ্নে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করায় জামায়াতকে ধন্যবাদ জানাই। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক ও নৈতিক সংগঠন। সেই অবস্থান থেকে দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সঠিক বলে আমরা মনে করি। এ ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সেই মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় তিনি দাবি করেছিলেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী এবং পুরো ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অংশ। তবে বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিতর্ক অব্যাহত থাকায় দলীয়ভাবে তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।






