টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জুঁইযুঁথী ফিলিং স্টেশন থেকে কোদালিয়া খেয়াঘাট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চরম চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা মাত্র ১ কিলোমিটারের এই সড়কটি এখন যেন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য চরম ভোগান্তির নাম। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করছেন অন্তত ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। যদিও ওই সড়কের মহাসড়কের অংশ থেকে কয়েকশ মিটার মাত্র পাকাকরণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের অধিকাংশ স্থানে খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব খানাখন্দে পানি জমে তৈরি হয় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন এক-একটি ছোট ডোবা। বিপজ্জনক এই সড়কে চলাচলের সময় প্রায়শই অটোরিকশা, সিএনজি ও ভ্যান উল্টে গিয়ে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। যানবাহন চালকরা নিরুপায় হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করায় প্রতিদিন বিকল হচ্ছে গণপরিবহন।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থী, পোশাক কারখানার শ্রমিক ও মুমূর্ষু রোগীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং পোশাক কারখানার শ্রমিকরা এই পথ ব্যবহার করেন। তবে সড়কের করুণ দশার কারণে একদিকে যেমন শ্রমিকদের কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে ঝাঁকুনির কারণে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ভোগ বাড়িয়েছে সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ। সড়কের বেশ কিছু অংশে নতুন ফেলা মাটি ধসে পড়েছে। ফলে কোদালিয়া খালের ওপর নির্মিত সেতুটি এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে, যা দিন ও রাতে চলাচলের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কোদালিয়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা এমারত সিকদার অভিযোগ করে বলেন, সড়কটির বেহাল দশা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ইতোপূর্বে এ সড়ক দিয়ে চলাচলের জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতা আনোয়ার পারভেজ শাহ আলম বিভিন্ন সময় বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে তিনি কাঁদাযুক্ত সড়কে ইট-খোয়া ফেলে জনগণের উপকার করেছেন। আমরা দ্রুত এ সড়কটির সংস্কার চাই।
হাসেম সিকদার নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, আমি দোকান থেকে রাতে বাড়ি যাওয়ার পথে প্রতিনিয়তই অসুবিধার মুখে পড়ি। দুদিন আগেও মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছি। তিনি স্থানীয় এমপি ও জনপ্রতিনিধিদের জনস্বার্থে ও এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে অনতিবিলম্বে সড়কটি দ্রুত সংস্কার এবং সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও টেকসই উন্নয়নে যেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় সে আহ্বান জানান।
উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন বলেন, সড়কটির বেহাল দশার বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি। তবে ওই সড়কের জন্য আপাতত কোনো বরাদ্দ নেই। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আবেদন প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে ওই সড়ক সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।






