ঢাকা   শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে যান সাহাবুদ্দিন, যে জটিল রোগে আক্রান্ত

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম

মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে যান সাহাবুদ্দিন, যে জটিল রোগে আক্রান্ত

মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে যান সাহাবুদ্দিন, যে জটিল রোগে আক্রান্ত

শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সদ্যসাবেক এই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্রে যেসব শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন, এর মধ্যে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামের জটিল রোগটি আলোচনায় এসেছে।

পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ (Autonomic Neuropathy) নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে।

তিনি লেখেন, এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই।

অটোনমিক নিউরোপ্যাথি হলো এমন একটি স্নায়ুরোগ, যেখানে শরীরের স্বয়ংক্রিয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, হজম, মূত্রথলির কার্যকারিতা, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এমনকি যৌনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হতে পারে। দাঁড়ানোর সময় হালকা মাথা ব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এ রোগের প্রধান কারণ। এ ছাড়া কিছু অটোইমিউন রোগ, স্নায়বিক সমস্যা, সংক্রমণ কিংবা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এটি হতে পারে। এ ছাড়া পারিবারে এই রোগের ইতিহাস থাকলে তা হতে পারে।

রোগের লক্ষণগুলো

১. দাঁড়ানোর সময় হালকা মাথা ব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে হওয়া (অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন)

২. কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা ডায়রিয়া

৩. মূত্রাশয়ের কর্মহীনতা, যেমন প্রস্রাব শুরু বা বন্ধ করতে অসুবিধা হওয়া

৪. যৌ’ন কর্মহীনতা, যেমন পুরুষত্বহীনতা বা প্রচণ্ড উত্তেজনা অর্জনে অসুবিধা হওয়া

৫. গিলতে অসুবিধা

৬. গ্যাস্ট্রোপেরেসিস, বা পেট খালি হতে বিলম্ব হতে পারে

৭. অস্বাভাবিক ঘাম বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ না থাকা

৮. শুকনো চোখ এবং মুখ

৯. বুক ধড়ফড় করা

১০. সমন্বয় এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে অসুবিধা হওয়া

অটোনমিক নিউরোপ্যাথির স্থায়ী কোনো চিকিৎসা নেই। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো রোগের কারণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং উপসর্গ কমিয়ে রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করা।

ডায়াবেটিসজনিত ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো রোগ শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে গুরুতর অবস্থায় বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা রক্তচাপের বড় ধরনের ওঠানামা রোগীর দৈনন্দিন জীবন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন