ঢাকা   বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

কুমিল্লায় জমি বিরোধে হামলা-ভাঙচুর, ঘরহারা তিন পরিবারের আহাজারি

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১৬ এএম

কুমিল্লায় জমি বিরোধে হামলা-ভাঙচুর, ঘরহারা তিন পরিবারের আহাজারি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বহিরাগত লোকজন নিয়ে তিনটি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বসতঘর ভেঙে দেওয়ার পর তিনটি পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল মতিন সাজু বাদী হয়ে আমিনুল হক তুহিনকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় মামলা করেছেন।

(২৮ জুন )মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা টিন ও ঘরের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। বসতঘর হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বাতিসা গ্রামের আমিনুল হক তুহিনের সঙ্গে আব্দুল মতিন সাজুদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত শনিবার বিকেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বহিরাগত লোকজন নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আব্দুল মতিন সাজু ও তাঁর দুই ভাইয়ের তিনটি টিনশেড বসতঘর, টিনের সীমানাপ্রাচীর এবং ঘরে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র, নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, মূল্যবান সামগ্রী ও প্রায় চার ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। এতে ২০ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

হামলায় আহতরা হলেন—আব্দুল মমিন সুজন, আব্দুল মতিন সাজু ও তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে গুরুতর আহত আব্দুল মমিন সুজন ও আব্দুল মতিন সাজুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় পাঠানো হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী আব্দুল মতিন সাজুর মা ছেনোয়ারা বেগম বলেন, ঘটনার দিন পরিবারের সদস্যরা একটি দাওয়াতে গিয়েছিলেন। এ সুযোগে তুহিনের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক লোক বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাঁর তিন ছেলের বসতঘর ভাঙচুর করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা ঘরে থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, মূল্যবান কাগজপত্র ও চার ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে আমরা বাড়িতে ফিরলে আমাদের ওপরও হামলা করা হয়। এতে আমার দুই ছেলে ও এক পুত্রবধূ আহত হয়েছেন।

আহত শারমিন আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে বিভিন্নভাবে তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। গত দেড় বছরে তুহিনের নেতৃত্বে তাঁদের ওপর অন্তত তিনবার হামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, আমার স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে আমিও হামলার শিকার হই। আমার একটি হাত ভেঙে গেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

আহত আব্দুল মমিন সুজন বলেন, তাঁর বাবা ১৯৯৬ সালে ওই জায়গা কিনেছিলেন। এরপর প্রায় ২০ বছর ধরে সেখানে তিন ভাই পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। গত কয়েক বছরে একাধিকবার তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, সর্বশেষ ২৫ জুলাই বিকেলে বহিরাগত লোকজন নিয়ে আমাদের বসতঘর ভেঙে দেওয়া হয় এবং আমাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করা হয়। বাধা দিতে গেলে আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। আমার ভাই ও তাঁর স্ত্রীকেও মারধর করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান অভিযুক্ত আমিনুল হক তুহিন বলেন, মৃত আবদুল খালেকের ছেলেরা জোরপূর্বক আমাদের জায়গা দখল করে রেখেছে। সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও সফল হইনি। তাই এলাকাবাসীকে নিয়ে আমার পৈতৃক সম্পত্তি দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, বাতিসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন