ইরানের বিমানবাহিনীর পাইলটরা জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) কিংবা আইএনএসের (ইনারশিয়াল ন্যাভিগেশন সিস্টেম) মতো কোনো নেভিগেশন ব্যবস্থা ব্যবহার না করেই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত সামরিক ঘাঁটিতে দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়েছেন। এমনটি জানিয়েছেন ইরানের একজন শীর্ষ কমান্ডার।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এয়ার ফোর্সের (আইআরআইএএফ) ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ জাফারি এ তথ্য জানান। তিনি ২ মার্চ কাতারে অবস্থিত আল-উদেইদ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের অভিযানের কথা উল্লেখ করে এসব মন্তব্য করেন।
জাফারির দাবি, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কাজ করতে করতে ইরানের পাইলটরা জিপিএস ও আইএনএস ছাড়াই উড্ডয়ন ও অভিযান পরিচালনায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তারা মানচিত্র পাঠ এবং মৌলিক নেভিগেশন কৌশলের ওপর নির্ভর করে সামরিক মিশন সম্পন্ন করেন।
তিনি বলেন, ‘সম্ভবত, আমাদের তুরুপের তাস ছিল যে আমরা কোনো ধরনের সংকেতই নির্গত করিনি—এমনকি বিমান থেকে কোনো রেডিও যোগাযোগ বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক সংকেতও নির্গত হয়নি।’ ইরানি এই কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ ইরানের বিমানবাহিনী কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে অভিযান চালায়। একই দিনে ইরানি এফ-৫ যুদ্ধবিমান কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত আল-আদিরি ঘাঁটিতেও অভিযান পরিচালনা করে।
জাফারি আরও দাবি করেন, মার্কিন ঘাঁটির ওপর হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সতর্ক অবস্থায় চলে যায়। এ সময় কুয়েতি বাহিনীর আক্রমণে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়।
চারজন পাইলট এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমানে করে শিরাজের শহিদ দৌরান বিমানঘাঁটি থেকে আল-উদেইদ ঘাঁটিতে অভিযান চালান। তাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ কাজেমির মরদেহ সম্প্রতি দেশে ফিরেছে। বাকি তিন পাইলটের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনও জানা অজানা। জাফারি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের শুরুর দিকে প্রতিপক্ষ সম্ভবত ধারণাই করেনি যে ইরানের বিমানবাহিনী এত ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনার সাহস দেখাবে।’






