ঢাকা   শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

“ভারতের নিষেধাজ্ঞায় আখাউড়া বন্দরের প্রবৃদ্ধিতে ব্রেক”

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম

“ভারতের নিষেধাজ্ঞায় আখাউড়া বন্দরের প্রবৃদ্ধিতে ব্রেক”

ভারতের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে সীমিত কয়েকটি পণ্যেই আটকে আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের বাণিজ্য। দীর্ঘ সময় ধরে আমদানি কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকায় দেশের অন্যতম রপ্তানিনির্ভর এ স্থলবন্দরের প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়নি। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বন্দরটির রপ্তানি আয় বেড়েছে মাত্র ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৯ টাকা। অন্যদিকে অনিয়মিত আমদানির কারণে সরকারের রাজস্ব আয় কমেছে প্রায় ৮৩ শতাংশ।

বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একসময় বহুমুখী পণ্য রপ্তানির জন্য পরিচিত আখাউড়া স্থলবন্দর এখন কার্যত সীমিত কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, শুটকি, আটা-ময়দা ও ভোজ্য তেলসহ অল্প কয়েকটি পণ্য আগরতলা হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে রপ্তানি হচ্ছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের তথ্য বলছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ৫২৪ কোটি ২ লাখ ৮৯ হাজার ২৩৮ টাকার পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৫১৪ কোটি ৩৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৯ টাকা, যা ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।

ব্যবসায়ীদের দাবি, ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন কয়েকটি বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।আমদানি পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক।

ব্যবসায়ীদের অনীহার কারণে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাস ভারত থেকে কোনো পণ্য আমদানি হয়নি। পুরো অর্থবছরে মাত্র ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪০ টাকার চাল, আগরবাতি ও জিরা আমদানি হয়েছে। এসব পণ্য থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৩ টাকা।

এর আগের ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৯ টাকা। সে সময় রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৯ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আয় কমেছে প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ৮৩।

ব্যবসায়ীরা জানান, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যেসব পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে, তার বেশির ভাগই ত্রিপুরার বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়, কিন্তু সে অনুযায়ী মুনাফা পাওয়া যায় না। ফলে অনেক আমদানিকারক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন।

আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী রাজীব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘২০২৫ সালের ১৭ মে ভারত সরকার স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্লাস্টিক পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফলের স্বাদযুক্ত জুস, পিভিসি সামগ্রী ও তুলাসহ কয়েকটি উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়নি। ফলে হিমায়িত মাছের পর সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্যগুলোও এখন রপ্তানি করা যাচ্ছে না।’

আরেক ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘স্থানীয় বাজারে যে পণ্যের চাহিদা থাকে, সে পণ্য আমদানির সুযোগ দিতে হবে। সীমিত পণ্যের অনুমতি দিয়ে আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। লোকসান দিয়ে দীর্ঘদিন ব্যবসা চালানো যায় না।’

আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের কূটনৈতিক টানাপোড়েন অনেকটাই কমেছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশা ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় রপ্তানি প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি। দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রয়োজন।’

আখাউড়া স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার শেখ সাহির আহমেদ বলেন, ‘আমদানি অনিয়মিত হওয়ায় রাজস্ব আয় কমেছে। তবে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতির দাবিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

বন্দর-সংশ্লিষ্টদের মতে, আখাউড়া স্থলবন্দরের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। পাশাপাশি রপ্তানি ও আমদানিযোগ্য পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণ এবং বাস্তবসম্মত আমদানি নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। অন্যথায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ প্রায় শতভাগ রপ্তানিনির্ভর স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক সক্ষমতা আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন