জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে নিহত এক আন্দোলনকারীকে আওয়ামী লীগের কর্মী বানিয়ে এবং জানাজা দিয়ে ‘ইস্যু’ তৈরির জন্য চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।
সেই ফোনালাপে যুক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এমন একটি চাঞ্চল্যকর ফোনালাপের রেকর্ড জমা দেওয়া হয়েছে।
মামলায় তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। এরপর মামলার কার্যক্রম সোমবার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য রেখেছেন।
আজ রোববার ট্রাইব্যানাল- ২ এর চোয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
শুনানিতে ওবায়দুল কাদের সঙ্গে জুনাইদ আহমেদ পলক এবং চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের কল রেকর্ড শোনানো হয়। এছাড়া আ জ ম নাছিরের সঙ্গে নানকের কথা হয়।
ফোনকলে ওবায়দুল কাদের বলেন: ‘হ্যালো, নাছির কি করতেছে?’
নাছির: ‘জি ভাই, কাল থেকে ফাইট করছি। আজও তো ওই ইয়া না, সারাদিনই মারামারি। এখনও চলছে।’
ওবায়দুল কাদের: ‘ইউনিভার্সিটি কি ওই শিবিরের…?’
নাছির: ‘না, বিশ্ববিদ্যালয় গেছে না না না না… বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি একদম নিয়ন্ত্রণে আছে। ১০০ ভাগ নিয়ন্ত্রণে। বিশ্ববিদ্যালয় না। ওখান থেকে এখন টাউনে…।’
ওবায়দুল কাদের: ‘ইউনিভার্সিটি, চিটাগং কলেজ…?’নাছির: ‘না না, এগুলো সব নিয়ন্ত্রণে। টাউনের ছোট একটা জায়গায় মুরাদপুর। ওদের সঙ্গে ফাইট হচ্ছে। ওরা বিভিন্ন জায়গা থেকে আইসা ওখানে গত প্রায় ২টা থেকে শুরু হইয়া এখন পর্যন্ত চলছে। ওইখানে…।’
ওবায়দুল কাদের: ‘ওটা মুরাদপুর এক জায়গায়?’
নাছির: ‘মুরাদপুর একটা জায়গায়, একটা জায়গায়…। ছোট্ট একটা জায়গায়। ওইখানে ওই একপাশে ওরা…। আর আর পুরো চট্টগ্রাম পুরো কন্ট্রোলে। পুরো চট্টগ্রাম একদম ইউনিভার্সিটি…।’ওবায়দুল কাদের: ‘আচ্ছা ঠিক আছে, তুমি… কথা বলো।’
নাছির: ‘আমি একদম দিচ্ছি। নিশ্চিন্তে থাকেন, ১০০ ভাগ নিশ্চিন্তে থাকেন। ইনশা আল্লাহ।’
জাহাঙ্গীর কবির নানক: ‘হ্যাঁ, নাছির?’নাছির: ‘জি জি, স্লামালাইকুম।’
জাহাঙ্গীর কবির নানক: ‘কি অবস্থা?’
নাছির: ‘আমাদের এখানে পুরোপুরি ঠিক আছে। পুরো চট্টগ্রামে শুধু মুরাদপুর একটা জায়গায়, একটা জায়গায় শিবির ওই দিকে একটা অবস্থান নিছে। ওরা ওইখানে ফাইট হয়ে এই পর্যন্ত তিনজন মারা গেছে। বুঝছেন? ওই খানে গোলাগুলি চলতেছে।’জাহাঙ্গীর কবির নানক: ‘তিনজন কারা? কারা মারা গেল?’
নাছির: ‘পথচারী আছে, ওদের একজন আছে, আমাদেরও একজন আছে। আর প্রচুর ইনজিউরি হইছে। প্রচুর ইনজিউরড হইছে। বুঝছেন না? প্রচুর দুই পক্ষেরই হইছে ওইখানে। ওইখানে আমরা একপাশে আছি। মুরাদপুরে একপাশে, মোড়ের ওপাশে ওরা, এইপাশে…।’
জাহাঙ্গীর কবির নানক: ‘নাছির ভাই?’
নাছির: ‘জি জি জি।’
জাহাঙ্গীর কবির নানক: ‘আমাদের যেটা মারা গেছে, সেটার জানাজা-টানাজা করেন। ওইটাকে ইস্যু করেন।’
নাছির: ‘ওইটাকে একটু ইস্যু করার চেষ্টা করতেছি। ওইটা এখন মেডিকেলে পাঠাইছে। ওইটা কনফার্ম করে, কনফার্ম করে তারপর ইয়া করবে।’
জাহাঙ্গীর কবির নানক: ‘ওইটাকে ইস্যু করেন, ওইটাকে ইস্যু করেন, হ্যাঁ? বি অ্যালার্ট, ওদের কিন্তু খুব খারাপ মতলব। বি অ্যালার্ট।’
নাছির: ‘হ্যাঁ, আর আর আর একটা বলি- আর সব পুরো একদম ১০০ পার্সেন্ট। ভার্সিটি থেকে আমি মানা করে দিছি যে, তোমরা ওখানেই থাকো। ভার্সিটি সবদিকে ঠিক আছে। ঠিক আছে, ১০০ ভাগ নিয়ন্ত্রণে, একদম ১০০ ভাগ নিয়ন্ত্রণে, ১০০ ভাগ নিয়ন্ত্রণে। আর চট্টগ্রাম শহরের সব জায়গায়, একটা জায়গায় ছোট্ট একটা জায়গায়…।’
জাহাঙ্গীর কবির নানক: ‘আচ্ছা থ্যাংক ইউ… থ্যাংক ইউ… থ্যাংক ইউ…।’






